স্বামী বিবেকানন্দের বাণী । পড়ুন । শেয়ার করুন
• বর্তমান কালের দার্শনিকগণ যে বলিয়া থাকেন, মানুষের জ্ঞান তাহার নিজে ভিতর হইতেই বিকশিত হয়—একথা সত্য বটে, সমুদয় জ্ঞানই মানুষের ভিতরে রহিয়াছে, কিন্তু ঐ জ্ঞানের উন্মেষের জন্য কতকগুলি অনুকূল পরিবেশের প্রয়ােজন।
• গুরু ব্যতীত আমরা কোনো জ্ঞান লাভ করিতে পারি না।
• যে ধর্ম বা যে ঈশ্বর বিধবার দুঃখ মোচন করতে পারে না অথবা অনাথ শিশুর মুখে একমুঠো খাবার দিতে পারে না, আমি সে ধর্মে বা সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না।
• আত্মা সর্বশক্তিধর এবং সর্বব্যাপী ।
• যে ব্যক্তির আত্মা হইতে অপর আত্মায় শক্তি সঞ্চারিত হয়, তাহাকে গুরু বলে এবং যে ব্যক্তির আত্মায় শক্তি সঞ্চারিত হয় তাহাকে ‘শিষ্য বলে।
• কর্মের ফলাকাঙ্ক্ষাই আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতিবন্ধক। শুধু তাই নয়, পরিণামে ইহা দুঃখের কারণ।
• দুর্বল মস্তিষ্ক কিছু করিতে পারে না। আমাদিগকে উহা বদলাইয়া সবল মস্তিষ্ক হইতে হইবে। তােমরা সবল হও, গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তােমরা স্বর্গের সমীপবর্তী হইবে।
• একাগ্রতা শিক্ষা লাভ কর। আর যে দিকে ইচ্ছা তাকে প্রয়ােগ করাে।
• আমাদের প্রথম কর্তব্য-নিজেকে ঘৃণা না করা। উন্নত হইতে হইলে প্রথমে নিজের ওপর, তারপর ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস আবশ্যক। যাহার নিজের ওপর বিশ্বাস নাই তাহার কখনােই ঈশ্বরে বিশ্বাস আসিতে পারে না।
• ঈর্ষা এক বীভৎস এবং ভয়ঙ্কর পাপ। ইহা মানুষের মধ্যে রহস্যজনকভাবে প্রবেশ করে।
• প্রফুল্লচিত্ত ব্যক্তিই অধ্যবসায়শীল হইতে পারে।
• মানুষ যাহা শিক্ষা করে, প্রকৃতপক্ষে সে উহা আবিষ্কার করে।
• ধর্মের প্রথম আভাস স্বপ্নের ভিতর দিয়া আসে।
• ধর্ম অনুরাগে-বাহ্য অনুষ্ঠানে নয়।
• আমরা ভিতরে যা বাইরে তাই দেখি, কেননা জগৎটি আমাদের আয়নার মতাে।
• কর্মতৎপরতা দ্বারা ঐহিক অভাব দূর না হলে ধর্ম-কথায় কেউ কান দেবে না।
• জ্ঞানই জ্ঞানের সর্বোচ্চ পুরস্কার।
• দীক্ষা হইতেছে সাক্ষাভাবে আধ্যাত্মিকভাবে জীবনে প্রবেশ। যথার্থ দীক্ষালাভ করিলে জানিবেন—আপনি দেহ নন, আপনি আত্মা।
• দর্শন হচ্ছে ধর্মের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা।
• আমরা যেন প্রদীপ-স্বরূপ, আর ঐ প্রদীপের ছটাকেই আমরা জীবন বলি। যখনই অম্লজান ফুরিয়ে যাবে, তখন আলােটাও নিভে যাবে।
• আমরা কেবল প্রদীপটি সাফ রাখতে পারি।
• জগতের সুখ-দুঃখের উপর শান্তভাবে দৃষ্টিপাত কর, ভালােমন্দ উভয়কেই সমান বলে দেখ—উভয়েই ভগবানের খেলা, সুতরাং ভালােমন্দ-সবেতেই আনন্দ করাে।
• যদি জন্মেছ ত, একটা দাগ রেখে যাও।
• চিন্তাগুলিই বহুকাল স্থায়ী, আর তাহাদের গতিও বহুদূর ব্যাপী। আমরা যে কোনাে চিন্তা করি, তাতে আমাদের চরিত্রের ছাপ লেগে যায়, এই জন্য সাধুপুরুষদের ঠাট্টায় বা গালাগালিতে পর্যন্ত তাঁদের হৃদয়ের ভালােবাসা ও পবিত্রতার একটুখানি রয়ে যায় এবং তা আমাদের কল্যাণ সাধন করে।
• সন্ন্যাসীর গৈরিক বসন মুক্ত পুরুষের চিহ্ন।
• মানুষের যে বড় বড় গুণগুলি দেখা যায়, সেগুলি তার নিজের; কিন্তু তার দোষগুলি মনুষ্যজাতির সাধারণ দূর্বলতা মাত্র। সুতরাং তার চরিত্র বিচার করবার সময় সেগুলি কখনও গণনা করতে নেই।
• গভীরতার সঙ্গে উদারতা অর্জন কর, কিছু গভীরতা হারিয়ে উদারতা চেও না।
• চতুর্দিকে পবিত্র চিন্তা সর্বদা স্পন্দিত হইতে থাকিলে সেই স্থানটি পবিত্র জ্যোতিতে পূর্ণ হইয়া থাকে।
• প্রেরণা আমাদের ভেতর থেকে ওঠে, তাই নিজ নিজ উচ্চতর শক্তিদ্বারা আমাদের নিজেদের অনুপ্রাণিত করতে হবে।
• জড় সুখ কেবল জড় দুঃখের রূপান্তর মাত্র।
• পবিত্রতায় কোনাে বন্ধন নাই।
• সমাজের মধ্যে যাহা কিছু সুন্দর ও মহৎ সবই প্রেমপ্রসূত; আবার কুৎসিত এবং পৈশাচিক ব্যাপারগুলি সেই একই প্রেমশক্তির বিকাশমাত্র।
• জগতের ইতিহাস আলােচনা করিলে সর্বত্রই দেখিতে পাওয়া যায় যে, মানুষ প্রতীক বা বিভিন্ন ভাব প্রকাশ রূপের মাধ্যমে সূক্ষ্মকে ধরিবার চেষ্টা করিতেছে। ধর্মের বাহ্য অঙ্গ ঘন্টা, সঙ্গীত, শাস্ত্র, প্রতিমা, অনুষ্ঠান প্রভৃতি ঐ পর্যায়ভুক্ত।
• যখন চিত্ত অর্থাৎ মন কোনাে নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ—সীমাবদ্ধ হয়, তখন উহাকে ‘ধারণা’ বলে।
• সুখের জন্য বাইরের বস্তুর ওপর নির্ভর না করে যত ভিতরের ওপর নির্ভর করব... ততই আমরা আধ্যাত্মিক হব। এই আত্মানন্দকেই ধর্ম বলা হয়।
• জগতের সকল দেহই আমার; সুতরাং আমার দেহ চিরকাল থাকিবে, কারণ গাছপালা, জীবজন্তু, চন্দ্রসূর্য, এমনকি সমগ্র জগৎব্রহ্মাণ্ডই আমার দেহ-ঐ দেহের আর নাশ হবে কী করে?
• আমরা প্রায় সকল ধর্মেই ঈশ্বরােপাসনার তিনটি সােপান দেখিতে পাই-প্রতীক বা মূর্তি, নাম ও দেবমানব।
• দেবতারাও মনুষ্যজন্ম না লইয়া মুক্তিলাভ করিতে পারে না।
• দিব্যপ্রেরণা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ হইবে।
• 'তপস’ শব্দের অৰ্থ তাপ দেওয়া বা উত্তপ্ত করা। এটা আমাদের উচ্চ প্রকৃতিকে ‘তপ্ত বা উত্তেজিত করবার সাধনা বা প্রক্রিয়া বিশেষ।
• প্রাণের অসামঞ্জস্যেই রােগের উৎপত্তি। অতিরিক্ত প্রাণটুকু সরাইয়া যেখানে প্রাণের অভাব হইয়াছে, সেখানকার অভাব পূরণ করিতে পারিলেই আরােগ্য হয়।
• আমাদের যােগ্যতা অনুযায়ী পরিবেশ গড়িয়া ওঠে।
• তেজস্বী হও, নিজের পায়ের ওপর দাঁড়াইয়া প্রেমের ভগবানকে অন্বেষণ কর। ইহাই শ্রেষ্ঠ শক্তি।
• আমি যেমন একদণ্ড চকমকিতে নিহিত থাকে, জ্ঞান তেমনি মনের মধ্যেই রহিয়াছে, উদ্দীপক কারণটি যেন ঘর্ষণ, জ্ঞানাগ্নিকে প্রকাশ করিয়া দেয়।
• যে আপনাকে স্বাধীনতা দিতে প্রস্তুত নয়, সে কি স্বয়ং স্বাধীনতা পাইবার যােগ্য?
• যাহাকে আমরা ভালােবাসি না, তাহার প্রতি শ্রদ্ধাসম্পন্ন হইতে পারি .
• জীবনে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, হৃদয়বান মানুষ জয়লাভ করে এবং ব্যক্তিত্বই সকল সাফল্যের গােপন রহস্য।
• অভিজ্ঞতাই আমাদের একমাত্র শিক্ষক। আমরা সারা জীবন তর্কবিচার করিতে পারি, কিন্তু নিজেরা প্রত্যক্ষ অনুভব না করিলে সত্যের কণামাত্র বুঝিতে পারিব না।
• জ্ঞান স্বতই বর্তমান রয়েছে, মানুষ কেবল সেটা আবিষ্কার করে মাত্র ।
• মানুষ যাহা শিক্ষা করে প্রকৃতপক্ষে সে উহা আবিষ্কার করে।
• যতদিন বাঁচি, ততদিন শিখি।
• বাংলা দেশের স্থানে স্থানে রকমারি ভাষা। কোটি গ্রহণ করব? প্রাকৃতিক নিয়মে যেটি বলবান হচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে, সেইটিই নিতে হবে, অর্থাৎ কলকাতার ভাষা।
• পৌত্তলিকতা ভালাে, কারণ উহা মানুষের প্রকৃতিগত। কে ইহা অতিক্রম করিতে পারে? কেবল সিদ্ধ ও দেব-মানবেরাই পারেন। বাকি সকলেই পৌত্তলিক।
• রূপ অতিক্রম করিয়া প্রেম অরূপকে দর্শন করায়।
• একটি বিষয়ে সর্বদা চিত্তবৃত্তি প্রবাহিত করার নাম ধ্যান।
• ঘটনাশ্রেণির পুনরাবর্তনে প্রবণতার নামই নিয়ম বা বিধি।
• নিঃস্বার্থপরতার অর্থ ঃ “আমি এই ক্ষুদ্র শরীর'-এই ভাব হইতে মুক্ত হওয়া। যখন আমরা দেখিতে পাই, কোনো লোক ভালো কাজ করিতেছে। পরোপকার করিতেছে, তখন বুঝতে হবে-সেই ব্যক্তি “আমি ও আমার' রূপ ক্ষুদ্র বৃত্তের ভিতর আবদ্ধ থাকিতে চায় না।
• চিত্ত যেন একটি-স্থির হুদের তুল্য, চিন্তাসমূহ যেন এ চিন্ত্বদের তরঙ্গ। আর এই সকল তরঙ্গের স্বাভাবিক আবির্ভাব প্রণালীকে “নামরূপ' 'বলে। নামরূপ ব্যতীত কোনো তরঙ্গ উঠিতে পারে না।
• শিক্ষা হচ্ছে মানুষের ভিতর যে পূর্ণতা প্রথম হতেই বিদ্যমান, তারই প্রকাশ।
• যাহাদের ধর্মপ্রণালী পৌরাণিক ভাববহুল ও অনুষ্ঠান প্রচুর, সেই সকল সম্প্রদায়েই বড় বড় ধর্মবীর জানিয়াছিলেন।
• অপরের স্বাভাবিক প্রবণতা উল্টে দেবার এতটুকু চেষ্টা ক'রো না, তাতে গুরু এবং শিষ্য উভয়েই পেছিয়ে যায়।
• পুরাতন পৌরাণিক ব্যাপারগুলিকে রূপকের আকারে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করলে এবং তাদের নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে কুসংস্কারের উৎপত্তি হয়, আর এটা বাস্তবিক দুর্বলতা ।
• পদ্মের মতো হও। পদ্ম এক জায়গাতেই থাকে, কিন্ত যখন ফুটে ওঠে, তখন চারদিক থেকে মৌমাছি আপনি এসে জোটে।
• অবশ্য কর্ম করতে গেলেই কিছু না কিছু পাপ আসবেই। এলোই বা, উপোসের চেয়ে আধপেটা ভালো নয়?
• নারীদিগের সম্বন্ধে আমাদের হস্তক্ষেপ করিবার অধিকার শুধু তাহাদিগকে শিক্ষা দেওয়া পর্যন্ত ।নারীগণকে এমন যােগ্যতা অর্জন করাইতে হইবে, যাহাতে তাহারা নিজেদের সমস্যা নিজেদের ভাবে মীমাংসা করিয়া লইতে পারে। তাহাদের হইয়া অপর কেহ এ কার্য করিতে পারে না , করিবার চেষ্টা করাও উচিৎ নহে । আর জগতের অন্যান্য দেশের মেয়েদের মতো আমাদের মেয়েরাও এ যোগ্যতা লাভে সমর্থ ।
