এ.পি.জে আব্দুল কালামের জীবনী ও ১০০ বানী
🌟 ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম: ভারতের প্রকৃত হিরো মিসাইল ম্যান এর জীবনী
ভারতের মিসাইল ম্যান, এক সাধারণ পরিবারের সন্তান থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি—ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের জীবন আমাদের শেখায়, ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনো স্বপ্নই দূরের নয়।
ড. কালামের জন্ম ১৯৩১ সালের ১৫ই অক্টোবর, তামিলনাড়ুর এক ছোট্ট গ্রাম রামেশ্বরমে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সাধারন মাঝি, আর পরিবার ছিল অতিব সাধারণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, শান্ত স্বভাবের এবং চূড়ান্ত অধ্যবসায়ী।
অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি কখনো থেমে যাননি। খবরের কাগজ বিলি করেও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এরপর মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে তিনি যোগ দেন ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে (DRDO) এবং পরে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনে (ISRO)। চাইলে তিনি NASA-র মতো বড় প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারতেন কিন্ত দেশকে ভালোবেসে , দেশের জন্য তিনি নিজেকে উজার করে দিয়েছেন ।
তাঁর নেতৃত্বেই ভারত প্রথম স্বদেশে নির্মিত স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (SLV-III) পাঠায় মহাকাশে। তার পর থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির স্থপতি—পৃথ্বী, অগ্নি, ত্রিশূলের মতো মিসাইল তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা নেন তিনি।
২০০২ সালে তিনি হন ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি। ‘জনতার রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে তিনি ছিলেন সকলের কাছে প্রিয়। তরুণদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অপরিসীম। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার যুব সমাজের স্বপ্নে এবং কর্মে।
২০১৫ সালের ২৭শে জুলাই, শিক্ষার্থীদের মাঝে বক্তৃতা দিতে গিয়েই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন—তাঁর জীবনও যেন শেষ মুহূর্তেও এক শিক্ষা দিয়ে গেল - কর্মই জীবন ।
🔥 তাঁর জীবনের মূল শিক্ষা:
স্বপ্ন দেখো, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্য লড়াই করো।
অভাব মানেই শেষ নয়, বরং শুরু।
জ্ঞান আর নৈতিকতা—এই দুই হল সত্যিকারের শক্তি।
ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের জীবন কেবল একটি আত্মজীবনী নয়—এটি কোটি কোটি মানুষের জন্য একটি পথনির্দেশ। তাঁর গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আকাশ সীমা নয়, মাত্র শুরু।
✳️ এ.পি. জে আব্দুল কালামের ১০০ টি অসাধারন উক্তি
“যারা তোমাকে বলে, 'তুমি পারো না' বা 'তুমি পারবেই না', তারা সম্ভবত সেইসব লোক যারা ভয় পায় এই ভেবে যে, তুমি পারবে।”
“প্রথম সাফল্যের পর বসে থেকো না। কারণ দ্বিতীয়বার যখন তুমি ব্যর্থ হবে তখন অনেকজন বলবে প্রথমবার তো শুধু ভাগ্যের জোরে সফল হয়েছিলো। এটা লী ভয়ে কালি
“মানুষের জীবনে প্রতিবন্ধকতা থাকা দরকার, কারণ বাধা না থাকলে সফলতা উপভোগ করা যায় না।”
“যদি তুমি পরাজিত হও, তাহলে হাল ছেড়ে দিও না, কারণ সেটাই হল তোমার শেখার প্রথম পদক্ষেপ।”
“একটা পরিষ্কার কথা হলো, যারা কঠোর পরিশ্রম করেন, সৃষ্টিকর্তা তাদেরই সহায় হন।”
“কাউকে হারিয়ে দেওয়া খুব সহজ হলেও, কাউকে জয় করা খুব শক্ত।”
“আমাদের সবার দক্ষতা সমান নয় ঠিকই, তবে আমাদের সবার কাছেই সেই দক্ষতাকে আরও বাড়ানোর সমান সুযোগ রয়েছে।
“প্রতিদিন সকালবেলা এই পাঁচটি কথা নিজেকে বলবে, আমি সেরা আমি নিশ্চয়ই পারবো সৃষ্টিকর্তা সর্বদা আমার সঙ্গে আছেন আজকের এই দিনটা শুধু আমার আমি জয়ী।”
“যখন বৃষ্টি শুরু হয় তখন সব পাখিরা কোথাও না কোথাও আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু ঈগল বৃষ্টিকে এড়িয়ে যায় মেঘের উপর উড়ে গিয়ে।”
“ওপরে উঠতে গেলে অনেক শক্তি দরকার, সেটা মাউন্ট এভারেস্টই হোক বা আপনার পেশা হোক।”
“যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছো না, তাহলে চিন্তিত হয়ো না- NO' শব্দের মানে হচ্ছে ‘Next Opportunity' অর্থাৎ 'পরবর্তী সুযোগ।” “শ্রেষ্ঠত্ব হলো একটি চলমান প্রক্রিয়া, কোনো দুর্ঘটনা নয়।”
“আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখো। আমরা কিন্তু একা নই। সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড আমাদের প্রতি বন্ধুসুলভ। আর যারা স্বপ্ন দেখে এবং যারা পরিশ্রম করে তাদেরকে প্রতিদান দেওয়ার জন্য এই বিশ্ব ষড়যন্ত্র করে চলে।” “যতদিন না স্বপ্নটা সত্যি হচ্ছে, ততদিন আপনাকে স্বপ্ন দেখে যেতে হবে।”
“যদি তুমি তোমার কাজকে স্যালুট করো, তাহলে তোমার আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না। কিন্তু যদি তুমি তোমার কাজকে অসম্মান করো, ফাঁকি দাও কিংবা অমর্যাদা করো, তাহলে কিন্তু তোমারই সবাইকে স্যালুট করে যেতে হবে।”
“তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার বার্তা হলো—তাদের ভিন্নভাবে চিন্তা করার সাহস রাখতে হবে। তাদের মনের মধ্যে আবিষ্কারের তাড়না রাখতে হবে। নিজের সমস্যাকে নিজে মেটাবার মানসিকতা রাখতে হবে।”
“প্রকৃত শিক্ষা একজন মানুষের গৌরব বৃদ্ধি করে এবং আত্মসম্মান বাড়ায়। যদি প্রত্যেকটি মানুষ শিক্ষার বাস্তব অর্থ বুঝে নেয় এবং সেটা * মানব উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহার করে, তবে এই দুনিয়াটা বসবাসের জন্য আরও ভালো স্থানে পরিণত হবে।”
“জাতির সবচেয়ে ভালো মেধা ক্লাসরুমের শেষ বেঞ্চ থেকেও পাওয়া যেতে পারে।”
“জীবন ও সময় হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। জীবন শেখায় সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে আর সময় শেখায় জীবনের মূল্য দিতে।”
“একজন আদর্শ ও মহান শিক্ষকের মধ্যে কয়েকটি বিশেষ গুণ অবশ্যই থাকতে হবে, সেগুলি হলো করুণা, জ্ঞান এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি।”
“একটি দেশকে দুর্নীতি মুক্ত এবং সুন্দর মনের মানুষের জাতিতে রূপান্তরিত করতে হলে, আমি বিশ্বাস করি তিনজন মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি থাকে। ওই তিনজন মানুষ হলেন মা, বাবা আর শিক্ষক।”
“একজন দক্ষ শিক্ষকের কাছ থেকে একজন খারাপ ছাত্র যা শিখতে পারে, তার চেয়ে একজন খারাপ শিক্ষকের কাছ থেকে একজন ভালো ছাত্র অনেক বেশি কিছু শিখতে পারে।”
“যুব সমাজকে চাকরীপ্রার্থী হওয়ার বদলে, চাকরিদাতা হওয়া প্রয়োজন।”
“যে অন্যদের জানে সে শিক্ষিত, কিন্তু জ্ঞানী তো হলো সেই ব্যক্তি যে নিজেকে জানে। কারণ জ্ঞান ছাড়া শিক্ষা কোনো কাজে আসে না।”
“যখন একটি শিশুর বয়স ১৫,১৬ বা ১৭ হয় তখন সে ঠিক করে যে সে বড় হয়ে একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ হবে অথবা চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে যাবে। এই সময় সে যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এবং এই পর সময়টাই হলো তাদের প্রকৃত গঠন হওয়ার সময়। আপনি তাদেরকে DU তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করাতে সাহায্য করতে পারেন।”
“বর্তমান সময়ে ইংরেজা শেখা খুবই আবশ্যক, কারণ বিজ্ঞান এর সমস্ত তার কাজ ইংরেজীতে হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে আগামী দুই দশকে বিজ্ঞানের কাজ আমাদের ভাষায় হওয়া শুরু হবে, তখন আমরাও জাপানিদের মতো সামনে এগিয়ে যেতে পারবো।”
“শিক্ষণ হলো একটি মহান পেশা, যা কোনো ব্যক্তির চরিত্র, ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎকে আকার দেয়। যদি মানুষ আমাকে একজন ভালো শিক্ষক রূপে মনে রাখে রাখে তবে সেটা আমার জন্য সবথেকে বেশি সম্মান জনক হবে।”
“আমার মতে, আপনি কম বয়সে অধিক আশাবাদী হন এবং এই সময় কল্পনা শক্তিও অধিক হয়। আর আপনার মধ্যে ভেদাভেদও কম আপনার হয়।”
“সেই হলো ভালো শিক্ষার্থী যে প্রশ্ন করে। প্রশ্ন না করলে কেউই শিখতে পারে না। শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে।”
“সহজ এবং দ্রুত সুখের জন্য ছোটা উচিত না। প্রকৃত সফলতার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও।”
“সফলতার আনন্দ পাওয়ার জন্য মানুষের কাজ কঠিন হওয়া উচিত, কারণ কঠিন কাজে আনন্দ বেশি পাওয়া যায়।”
“যারা হৃদয় দিয়ে কাজ করতে পারে না, তাদের সাফল্য অর্জন আনন্দহীন ও আকর্ষণহীন। আর এমন সাফল্যের থেকেই সৃষ্টি হয় তিক্ততা।”
“জীবন হলো একটা কঠিন খেলা, ব্যক্তি হিসাবে মৌলিক অধিকার ধরে রাখার মাধ্যমে একমাত্র তুমি জয়ী হতে পারবে।”
“যদি তুমি FAIL করো বা ব্যর্থ হও, তাহলে মোটেই হাল ছেড়ে দেবে না। কারণ ‘FAIL' শব্দটার অন্য মানে হলো First Attempt in Learning অর্থাৎ শিক্ষার প্রথম ধাপ।”
“আমাদের কখনই হাল ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং সর্বদা কোনো বাধা যাতে আমাদের পরাজিত করতে না পারে তার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।” “যদি আমার মধ্যে সফল হওয়ার যথেষ্ট মনের জোর থাকে, তাহলে ব্যর্থতা আমাকে টপকে যেতে পারবে না ৷”
“আমরা কেবল সাফল্যের উপরই গড়ি না, অসফলতার উপরেও গড়ি।” “নিজের লক্ষ্যে সফল হওয়ার জন্য নিজের লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠাবান হতে হবে।” নি
“সফলতার গল্পে কেবল একটি বার্তা থাকে কিন্তু ব্যর্থতার গল্পে থাকে চেনা সফল হওয়ার অনেক উপায়।”
“আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম হল ব্যর্থতা নামক রোগের সবচেয়ে চ ভালো ওষুধ, যা আপনাকে একজন সফল মানুষ করে গড়ে তুলবে।” “বিজয়ী হওয়ার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে, বিজয়ী হওয়ার দরকার নেই এটা পরে মনে করা। যখন তুমি স্বাভাবিক আর সন্দেহ মুক্ত থাকবে তখনই তুমি ভালো ফলাফল করতে পারবে।”
“একটি ভালো বই যেমন একশো ভালো বন্ধুর সমান, তেমন একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান।”
“যে কোনো ধর্মকে বানানোর জন্য আর তার প্রসারের জন্য অন্যের হত্যা করা আবশ্যক নয়।”
“উদার ব্যক্তিরা ধর্মকে ব্যবহার করে বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও সংকীর্ণ মনের মানুষেরা ধর্মকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে।”
“আমাকে বলুন, ভারতীয় মিডিয়া এত বেশি নেগেটিভ কেন? নিজের দেশের ভালো কাজ, সাফল্য-এগুলো পৃথিবীর সামনে প্রকাশ করতে এত মা লজ্জা কিসের? আমাদের কত গর্বের ইতিহাস আছে, এমনকি বর্তমানেও আমাদের দেশে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে, অনেক সফল ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তাহলে তাদের নিয়ে কেন বেশি প্রচার করা হয় না?”
“রাষ্ট্রপতি পদের রাজনীতিকরণ করা উচিত নয়। একবার রাষ্ট্রপতি রূপে নির্বাচিত হয়ে গেলে তিনি রাজনীতির উপরে।”
“যেখানে হৃদয় সৎ সেই ঘরে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, যখন ঘরে সবকিছু সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে তখন দেশে নিয়ম থাকে, আর দেশে যখন নিয়ম থাকে তখন দুনিয়াতে সবাই শান্তিতে থাকে।”
“অভিজ্ঞতা জিনিসটি কখনো কেউ কাউকে শেখাতে পারে না। তোমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষটি পরামর্শ দিলেও যতক্ষণ না তুমি নিজে · অভিজ্ঞতাটি অর্জন করছো, ততক্ষণ তুমি বিষয়টিকে সত্যিকারের উপলব্ধি করতে পারবে না।
“তুমি তোমার ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারবে না কিন্তু অভ্যাস নিশ্চই পরিবর্তন করতে পারবে আর সেই অভ্যাসই তোমার ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করে দেবে।”
“ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার। আর তা হলো প্রশ্ন করার ক্ষমতা, তাই তাদের প্রশ্ন করতে দিন।”
“তোমার স্বপ্ন আর তোমার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে কেবল একটি জিনিস, সেটি হচ্ছে অজুহাত। যেই মুহূর্ত থেকে তুমি নিজেকে অজুহাত দেখানো বন্ধ করে কাজ শুরু করবে সেই মুহূর্তে থেকে তোমার স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকবে না, সেটি বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করবে।”
“চলুন আমাদের সন্তানেরা যাতে কালকের দিনটিকে উপভোগ করতে পারে তাই আজকের দিনটিকে আমরা উৎসর্গ করি।”
“অসাধারণ হওয়ার জন্য কঠিন যুদ্ধে নামার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, যতক্ষণ না আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাচ্ছেন।”
“জীবনে সবকিছু একবার হলেও চেষ্টা করে দেখা উচিত। সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি মানুষকে কিছু না কিছু ক্ষেত্রে অনুপম দক্ষতা দিয়ে পাঠিয়েছেন, যতদিন না তুমি সেটি করে দেখছো, তুমি সেটি কখনও জানতেও পারবে না।”
“পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দের অনুভূতিটি হলো—যখন তুমি একটি লক্ষ্য ঠিক করেছিলে সেই লক্ষ্যটি । করতে পারলে।”
“তারুণ্যের জয় তখনই হবে, যখন তরুণরা নতুন চিন্তা করবে, নতুন কিছু কী ভাববে, অসম্ভবকে সম্ভব করবে।”
“তুমি যদি এখন থেকেই তোমার স্বপ্নগুলো সত্যি করার পেছনে ছুটে না চলো, একদিন তোমাকে অন্যদের অধীনে তাদের স্বপ্নগুলো সত্যি করার জন্য কাজ করতে হবে।”
“হতাশা হলো একটি 'বিলাসিতা। কাজ শেষের তৃপ্তিমাখা ক্লান্তি সেই হতাশার জায়গাটি দখল করুক।”
“যে নিজের মন থেকে কাজ করতে পারে না সে কিন্তু শুধুই ফাঁপা জিনিস অর্জন করে।”
“জীবনকে ভালোবাসুন, আর ভালোবাসায় কিছু উন্মাদনা থাকবেই। কিন্তু সব উন্মাদনায় কিছু আন্তরিকতা মিশে থাকে।”
“আমি এই কথাটা স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলাম যে, আমি কিছু জিনিসকে কখনই বদলাতে পারবো না।”
“আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যতক্ষণ না একজন ব্যর্থতা স্বাদ অনুভব করছেন, তার মধ্যে কখনই সফল হওয়ার যথেষ্ট ইচ্ছা থাকবে না।”
“নানারকমের চিন্তা ও উদ্ভাবনের সাহস থাকতে হবে। আবিষ্কারের নেশা া হবে। যে পথে কেউ বায়ান, সে পথেই এগোতে হবে। অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহস থাকতে হবে এবং সমস্যাকে জয় করেই সফল হতে হবে । ”
“লক্ষ্যকে সফলতায় রূপান্তরিত করার পূর্বে, লক্ষ্যের প্রতি সম্পূর্ণ ভক্তি থাকা অত্যন্ত জরুরী।”
“আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে “আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে কারণ স্বপ্ন থেকেই চিন্তার জন্ম হয় আর সেই চিন্তা থেকেই কাজের সৃষ্টি হয়।”
“সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে, তারপর সফল হতে হবে।”
“একজন উদ্যমী ও একজন বিভ্রান্ত মানুষের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতাকে তাদের মন যেভাবে ব্যবহার করে তার মধ্যে পার্থক্য।”
“ প্রশংসা করতে হয় প্রকাশ্যে কিন্তু সমালোচনা করতে হবে ব্যক্তিগত ভাবে।”
“বিজ্ঞান মানবতার জন্য একটি সুন্দর উপহার। আমাদের তাকে বিকৃত করা উচিত নয়।”
“ভারতকে নিজের ছত্র ছায়ায় চলা উচিৎ- আমাদের নিজস্ব ডেভেলপমেন্ট (D) মডেল হওয়া উচিত।”
“ছাত্রজীবনে বিমানের পাইলট হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়ে, হয়ে গেলাম রকেট বিজ্ঞানী। ”
“আমাকে দেখতে সুন্দর নয়, কিন্তু আমি আমার অন্তরের সৌন্দর্য দিয়ে কারও জীবনে আনন্দ এনে দিতে পারি যার তা প্রয়োজন।”
“আমাকে দেখতে কেমন তার উপরে আপনার সৌন্দর্য নির্ভর করে না, আপনি অন্তর থেকে কতটা সুন্দর তার উপরেই আপনার সৌন্দর্য নির্ভর করে।”
“আমার মতে খারাপ অভিজ্ঞতা বলে কিছুই হয় না।”
“নির্দিষ্ট লক্ষ্য, ক্রমাগত জ্ঞান সঞ্চয় করা, কঠোর পরিশ্রম ও হার না মানা মনোভাব—এই চারটি জিনিস যদি মেনে চলো তাহলে যে-কোনো কিছুকেই লাভ করতে পারবে।”
“সামাজিক, রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক-সব ক্ষেত্রেই যথার্থ কল্যাণের একটিই ভিত্তি আছে। সেটি হলো যে, আমি ও আমার ভাই এক। সবদেশে সব জাতির পক্ষেই এইকথা সমানভাবে সত্য।”
“মেঘ সকল ক্ষেত্রের উপর সমানভাবে বর্ষণ করে। কিন্তু যে-ক্ষেত্র উপযুক্তভাবে কর্ষিত, তাতেই ভালো ফসল হয়; কিন্তু যে-ভূমি ভালোভাবে কর্ষিত নয়, তা কিন্তু ওই বৃষ্টির ফল লাভ করতে পারে না। এটা কিন্তু মেঘের অপরাধ নয়।”
জগতে এই যে সৃষ্টি শক্তি দিনরাত কাজ করছে, দ করছে, এটা যাপন। এটা যদি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে এই জগৎ ধ্বংস হয়ে যায়। এমন সময় কখনো ছিল না, যখন সমগ্র জগতে এই শক্তি কার্যকারী ছিল না।”
“সব “সব হ ব্রহ্ম স্বরূপ। প্রত্যেক আত্মাই যেন মেঘে ঢাকা সূর্যের মতো; একজনের সঙ্গে আর একজনের তফাত কেবল এই যে—কোথাও সূর্যের উপর মেঘের আবরণ ঘন, আবার কোথাও সেই আবরণ একটা পাতলা।”
“ জীবন দ্রুত গতিতে চলে যায়, শক্তি লোপ পেয়ে যায়, কিন্তু প্রভু চিরদিন থাকেন—প্রেম চিরদিনই থাকে।” তা মার খে
“দেশে কি মানুষ আছে? ও শ্মশানপুরী। যদি নিম্নশ্রেণিদের শিক্ষা দিতে পারো, তবেই উপায় হতে পারে। জ্ঞানবলের চেয়ে বড়ো বল আর কি আছে। বিদ্যা শেখাতে পারো? বড়ো মানুষেরা কোন্ কালে কোন্ দেশে কার কী উপকার উপকার করেছে? সকল দেশেই বড়ো বড়ো কাজ গরিবেরা করে।”
“আমাদের নিম্নশ্রেণির জন্য কর্তব্য এই যে তাদেরকে শিক্ষা প্রদান করা এবং তাদের শেষ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিত্ব বোধ জাগিয়ে তোলা ।”
“আমাদের এখন ঘুমোবার সময় নয়, আমাদের সকলকেই এখন কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের কার্যকলাপের উপরই ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ওই দেখো, ভারতমাতা ধীরে ধীরে চোখ মেলেছেন। তিনি কিছু সময়ের জন্য নিদ্রিতা ছিলেন মাত্র। ওঠো, তাঁকে জাগাও আর নতুন জাগরণে নতুন প্রাণে পূর্বাপেক্ষা অধিক গৌরবমণ্ডিতা করে ভক্তিভাবে তাঁকে তাঁর শাশ্বত সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করো।”
“আমাদের জীবন অতীতকালে মহৎ ছিল, তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু আমি অকপটে বিশ্বাস করি যে, আমাদের ভবিষ্যৎ আরও গৌরবান্বিত।”
“উদ্দেশ্য অনেক আছে, কিন্তু উপায় নেই। আমাদের মাথা আছে, হাত নাই, আমাদের বেদান্ত মত আছে, কিন্তু কাজে পরিণত করার ক্ষমতা নেই। আমাদের বইতে মহা সাম্যবাদ আছে, আমাদের কাজে মহাভেদ বুদ্ধি। মহা নিঃস্বার্থ নিষ্কাম কর্ম ভারতেই প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু কাজে আমরা অত্যন্ত নির্দয়, অত্যন্ত হৃদয়হীন, নিজের মাংসপিণ্ড শরীর ছাড়া কী অন্য কিছু অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।”
“বীরের মতো এগিয়ে চলুন। একদিনে বা একবছরে সফলতার আশা করবেন না। সবসময় শ্রেষ্ঠ আদর্শকে ধরে থাকুন, দৃঢ় হন, ঈর্ষা ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দিন।”
“সত্য, স্বদেশ ও সমস্ত মানবজাতির কাছে চিরবিশ্বস্ত হন, তাহলেই আপনি সমস্ত জগৎ কাঁপিয়ে তুলবেন। মনে রাখবেন—ব্যক্তিগত ‘চরিত্র' এবং “জীবনই শক্তির উৎস, অন্য কিছু নয়।”
“ভেবো না তোমরা দরিদ্র, ভেবোনা তোমরা বন্ধুহীন, কে কোথায় দেখেছে টাকা মানুষকে সৃষ্টি করে? মানুষই চিরকাল টাকা করে থাকে। জগতের যা কিছু উন্নতি, সব মানুষের শক্তিতে হয়েছে, উৎসাহের শক্তিতে হয়েছে, জারী বিশ্বাসের শক্তিতে হয়েছে।” মাে
“আমাদের দেশের উপর আমি বিশ্বাস রাখি, বিশেষত আমার দেশের যুবকদলের ওপর। বঙ্গীয় যুবকদের কাঁধে অতি গুরুভার সমর্পণ করা। যা আর কখনো কোনো দেশের যুবকদের উপর পড়েনি।” STUD
“ভয় পেয়ো না, কারণ মনুষ্যজাতির ইতিহাসে দেখা গেছে, সাধারণ নীলোকের ভেতর সমস্ত কিছু মহাশক্তির প্রকাশ হয়েছে। জগতে যত বড়ো বড়ো প্রভাবশালী পুরুষ জন্মেছেন, সবই সাধারণ লোকের মধ্য থেকে। আর ইতিহাসে একবার যা ঘটেছে, পুনরায় তা ঘটবে। কিছুতেই ভয় জিগামী পেয়ো না। তোমরাও বিস্ময়কর কাজ করবে।”
“প্রকৃতিতে বৈষম্য থাকলেও সবার সমান সুবিধা থাকা উচিত। কিন্তু যদি কাউকে অধিক, কাউকে কম সুবিধা দিতেই হয়, তবে বলবান অপেক্ষা দুর্বলকে অধিক সুবিধা দিতে হবে।
“আমিও একসময় অতি নগণ্য বালক ছিলাম মাত্র। যদি আমি এতখানি করে থাকি, তবে তোমরা আমার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে পারবে।”
“প্রত্যেক ব্যক্তির অপর ব্যক্তিকে এইভাবে অর্থাৎ ঈশ্বর বলে চিন্তা করা উচিত ও তার সঙ্গে তেমনভাবে ব্যবহার করা উচিত। কাউকে ঘৃণা করা, কোনোরূপ নিন্দা করা বা অনিষ্ট করা উচিত না।” ।।"
“নিজেদের সঙ্কীর্ণ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে দেখো বাইরে গিয়ে, সব জাতি কেমন উন্নতির পথে চলছে। তোমরা কি মানুষকে ভালোবাসো? তোমরা কি
তোমার দেশকে ভালোবাসো? তাহলে এসো, আমরা ভালো হওয়ার জন্য, উন্নত হওয়ার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করি। পেছনে তাকিও না—অতিপ্রিয় আত্মীয় স্বজন কাঁদুক, পেছনে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাও।”
“প্রাচীনকালে ঢের ভালো জিনিসও ছিলো, আর খারাপ জিনিসও ছিলো। ভালোগুলি রাখতে হবে, কিন্তু আসছে যে ভারত Future India - Ancient India-র অপেক্ষা অনেক বড়ো।”
