রাশিফলঃ ২৬ জানুয়ারী থেকে ১লা ফেব্রুয়ারী ২০২৬

          ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল -  অভিজ্ঞ জ্যোতিষী দ্বারা প্রস্তুত  

প্রতি রবিবার রাত ১২ টায় দেওয়া হয় সেই সপ্তাহের আগাম রাশিফল । ভবিষ্যৎ জেনে  - সতর্ক থাকুন 




♈ মেষ 

মেষ রাশির জন্য এই সময়টা ধীরে ধীরে স্বস্তি নিয়ে আসবে। মঙ্গলবারের পর থেকে কর্মক্ষেত্রে যে চাপ, ভুল বোঝাবুঝি বা অকারণে বাধা তৈরি হচ্ছিল, সেগুলো অনেকটাই কমতে শুরু করবে। কাজের জায়গায় আপনি নিজের মতো করে এগোতে পারবেন, তবে সহকর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়ানো বা মনোমালিন্য পুষে রাখা একেবারেই ঠিক হবে না। ছোট কথাকে বড় করে দেখলে পরিস্থিতি আবার জটিল হতে পারে, তাই সচেতনভাবে শান্ত ও পেশাদার আচরণ রাখাই সবচেয়ে ভালো সমাধান। আপনার কাজে ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ দেখাতে পারলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখে আপনি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবেন, যা ভবিষ্যতে বড় সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।

এই সময় নতুন কাজ বা চাকরির খবর পাওয়ার যোগও আছে, যা মানসিকভাবে আপনাকে অনেকটাই হালকা ও আনন্দিত করবে। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, তাঁদের আত্মবিশ্বাস আবার ফিরবে। তবে পারিবারিক দিক থেকে কিছু চিন্তা মাথায় ঘোরাতে পারে। কোনো গুরুজনের শারীরিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে, যার চিকিৎসার জন্য অর্থব্যয় হতে পারে। এখানে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি—হঠাৎ আতঙ্কিত না হয়ে ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া আপনাকে মানসিক ও আর্থিক দুই দিক থেকেই সামলে রাখতে সাহায্য করবে।

পেশাগতভাবে শিল্পকলা, অভিনয়, হস্তশিল্প বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য সময়টা তুলনামূলক ভালো। একইভাবে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম বা রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবসায় যুক্তদেরও উন্নতির সুযোগ আসতে পারে। তবে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে অবহেলা করলে সমস্যা বাড়তে পারে। ছোটখাটো আঘাত বা শারীরিক অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাই তাড়াহুড়ো করে কাজ করা, অসাবধানতা বা নিয়ম ভাঙা থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের।

পরিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তা হঠাৎ কোনো ব্যক্তিগত কারণে বাতিল হতে পারে। এতে মন খারাপ হলেও এটাকে আপাতত মেনে নেওয়াই শ্রেয়, কারণ জোর করে কিছু করতে গেলে মানসিক চাপই বাড়বে। আর্থিক দিক মোটামুটি থাকবে—বড় লাভ যেমন নেই, তেমন বড় ক্ষতির আশঙ্কাও নেই। তাই এই সময়ের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার হবে কাজের উপর মনোযোগ রাখা, সম্পর্কগুলোকে শান্তভাবে সামলানো এবং নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যের দিকে একটু বেশি যত্ন নেওয়া।



♉ বৃষ 

বৃষ রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা আবেগ আর বাস্তবতার টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে কাটতে পারে। খুব কাছের কোনো মানুষের বিপদে আপনি সহানুভূতিবশত টাকা ধার দিতে পারেন, কিন্তু পরে সেই টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে মনে গভীর কষ্ট তৈরি হতে পারে। এখানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিজের সীমা বোঝা। ভবিষ্যতে আর্থিক সাহায্য করতে হলে লিখিত বোঝাপড়া বা নিজের সাধ্যের মধ্যে সাহায্য করা বুদ্ধিমানের, নইলে সম্পর্কের পাশাপাশি মানসিক শান্তিও নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখলে এই কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ব্যবসার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা, আলস্য বা কাজের প্রতি উদাসীনতা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। সুযোগ সামনে এসেও যদি আপনি দেরি করেন বা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তবে সাফল্য হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এই সময় নিজেকে একটু শাসনে রাখাই বাস্তবসম্মত সমাধান। ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস করলে ফল ভালো হবে। চাকরি বা কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনের যোগ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলাতে পারে, আবার কেউ নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। একাধিক দিক থেকে নতুন কাজের যোগাযোগ আসবে, ফলে ব্যস্ততা বাড়লেও আয় ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়বে।

আর্থিক দিক থেকে সময়টা বেশ শুভ। উপার্জনের পথ খুলবে এবং আগের তুলনায় হাতে টাকা আসার প্রবণতা বাড়বে। জমি, বাড়ি বা গাড়ি কেনার প্রবল যোগ রয়েছে, তবে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি। বড় বিনিয়োগ করার আগে কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করা এবং তাড়াহুড়ো না করাই নিরাপদ। পড়াশোনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষায় যুক্তদের জন্য সময়টা অগ্রগতিময়। মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে ভালো সাফল্য মিলবে।

স্বাস্থ্যের দিকে একটু সাবধান হওয়া প্রয়োজন, কারণ আঘাতের যোগ রয়েছে। হঠাৎ অসাবধানতা বা তাড়াহুড়ো বিপদের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে কথা বলার সময় ও আচরণে সংযম রাখা খুব জরুরি। আবেগে কিছু বলে ফেললে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। লেখক ও শিল্পীদের জন্য সময়টা সম্মানের, কারণ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি বা বিশেষ সম্মান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সব মিলিয়ে, আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে পারলে এই সময়টা বৃষ রাশির জন্য সাফল্য ও স্থিতি নিয়ে আসতে পারে।



♊ মিথুন 

মিথুন রাশির জন্য এই সময়টা একটু সংবেদনশীল এবং সাবধানতার সঙ্গে চলার দাবি রাখে। আগে কাউকে যে টাকা ধার দেওয়া হয়েছিল, তা ফেরত চাইতে গিয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে এবং সেই কারণে অকারণে সম্মানহানিও হতে পারে। তাই বাস্তব সমাধান হলো সরাসরি ঝগড়ায় না গিয়ে বিষয়টা ঠান্ডা মাথায় সামলানো। প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নেওয়া বা আপাতত বিষয়টি স্থগিত রাখা অনেক সময় পরিস্থিতিকে আপনার পক্ষে রাখতে পারে। নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করা এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের লাভের জন্য আপনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। অযথা বিশ্বাস বা তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা আছে। তাই যেকোনো নতুন প্রস্তাব, কাগজপত্র বা কথাবার্তা ভালোভাবে যাচাই করা দরকার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে বিপদের সময় আপনি মানসিক ও বাস্তব সমর্থন পেতে পারেন। কাজের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, যুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

স্বাস্থ্যের দিক থেকে পুরোনো কোনো রোগ আবার মাথাচাড়া দিতে পারে, যার ফলে শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে মানসিক শক্তিও কিছুটা কমে যেতে পারে। এই সময় নিজের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। নিয়মিত ওষুধ, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মানলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সময়টা তুলনামূলক শুভ। দলে দায়িত্ব বা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সম্মান ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়াবে।

আর্থিক বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের। দ্রুত লাভের আশায় নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে চাপ তৈরি করতে পারে। জমি বা বাড়ি কেনার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করা প্রয়োজন, কারণ সম্মিলিত মতামত ভবিষ্যতের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে সাহায্য করবে। ধর্মীয় চিন্তাভাবনা ও আধ্যাত্মিকতায় মন দিলে মানসিক শান্তি মিলবে। লেখক ও সাংবাদিকদের জন্য সময়টা ভালো, কারণ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি, সাফল্য বা নতুন সুযোগ আসতে পারে। সব মিলিয়ে, সচেতনতা, ধৈর্য আর সংযম বজায় রাখলেই এই সময়টা নিরাপদ ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে।



♋ কর্কট 

কর্কট রাশির জন্য এই সময়টা মিশ্র অভিজ্ঞতার হতে পারে, যেখানে সাফল্যের সঙ্গে কিছু মানসিক ও শারীরিক চাপও এসে জুড়বে। যাঁরা চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের জন্য সময়টা বেশ অনুকূল। পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে, বিষয় বোঝার ক্ষমতা তীক্ষ্ণ হবে এবং পরীক্ষায় বা গবেষণায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্র বা ব্যবসায় কিছু মানুষের ঈর্ষা বা শত্রুতা আপনাকে বিব্রত করতে পারে। এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো নিজের কাজের মান ঠিক রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলা। নীরব ও ধারাবাহিক পরিশ্রমই এই সময়ে আপনার সবচেয়ে বড় রক্ষা-কবচ।

স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। বুক, পেটের সমস্যা কিংবা সর্দি-কাশি বাড়তে পারে, যা দৈনন্দিন কাজে বিরক্তি তৈরি করবে। এর সঙ্গে মানসিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা যোগ হলে সমস্যাটা আরও বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বিশ্রাম, হালকা খাবার, পর্যাপ্ত জল ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব প্রয়োজন। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, শ্বাসব্যায়াম বা একান্তে কিছু সময় কাটানো আপনাকে অনেকটাই স্থির থাকতে সাহায্য করবে।

এই সময় আধ্যাত্মিকতার দিকে টান বাড়তে পারে এবং কোনো সদগুরুর সান্নিধ্য বা উপদেশ আপনার জীবনদৃষ্টিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আর্থিক দিক থেকে আয় বাড়ার যোগ আছে, যা কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে জমি বা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ পেতে দেরি হতে পারে, তাই ধৈর্য ধরে কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া ঠিকঠাক রাখা দরকার। তাড়াহুড়ো করলে শুধু মানসিক চাপই বাড়বে।

সন্তানের পড়াশোনায়, বিশেষ করে বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের যোগ রয়েছে, যা পরিবারের জন্য গর্বের কারণ হবে। তবে নিজের স্বভাবের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত জেদ বা একগুঁয়ে মনোভাবের কারণে পরিচিতজনেরা ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে পারেন। এই সময় একটু নমনীয় হলে সম্পর্কগুলো অনেক বেশি সুন্দর থাকবে। পরিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনায় বাধা আসতে পারে, যার ফলে মন অস্থির হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, ধৈর্য, সংযম ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে এগোতে পারলে এই সময়ের চাপ সামলানো সম্ভব এবং ভালো দিকগুলোকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে।



♌ সিংহ

সিংহ রাশির জন্য এই সময়টা নিজের স্বভাবকে সামলানোর এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতিক্রোধ আর কঠোর বা অপ্রিয় কথা যদি নিয়ন্ত্রণে না রাখা যায়, তাহলে পরিবার, বন্ধু এবং কর্মক্ষেত্র—সব জায়গাতেই অযথা ঝামেলা বাড়তে পারে। অনেক সময় আপনার কথার উদ্দেশ্য খারাপ না হলেও বলার ভঙ্গি সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। তাই বাস্তব সমাধান হলো কথা বলার আগে এক মুহূর্ত থেমে ভাবা এবং রাগের সময়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। এতে বহু অপ্রয়োজনীয় সমস্যা আপনিই এড়িয়ে যেতে পারবেন।

কর্মক্ষেত্রে স্থানগত বা কাজের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। শুরুতে এই পরিবর্তন কিছুটা অস্থির লাগলেও, পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা করলে ভবিষ্যতে কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। একাধিক নতুন ক্ষেত্র বা দায়িত্ব আপনার সামনে খুলে যাবে, যা আপনার দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ এনে দেবে। এই সময় গুণী ও প্রভাবশালী মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হতে পারে এবং তাঁদের সহযোগিতায় কাজের সাফল্য পাওয়া সম্ভব। অর্থনৈতিক দিক থেকে কোনো ব্যক্তির প্রত্যক্ষ সহায়তায় বড় বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার যোগ আছে, তাই অহং ছেড়ে প্রয়োজন হলে সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।

পড়াশোনা বা বিদ্যাচর্চায় আলস্য ও অমনোযোগিতা বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত রুটিন না মানলে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে, তাই ছোট ছোট সময় ভাগ করে পড়াশোনা করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ সতর্কতা দরকার। হাড়ের সমস্যা, সুগার, রক্তচাপ বা পেটের অসুখে ভোগান্তি বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি জীবনযাপন অনিয়মিত হয়। খাদ্যাভ্যাস ও বিশ্রামে শৃঙ্খলা আনলে সমস্যার তীব্রতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মায়ের সঙ্গে মতান্তরের প্রবল যোগ রয়েছে, যা মানসিক অশান্তির কারণ হতে পারে। এখানে যুক্তির বদলে সহানুভূতি দেখানোই সম্পর্ক মেরামতের চাবিকাঠি। এই সময় মনে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য বাড়তে পারে, তাই নিজেকে স্থির রাখতে ধ্যান, হালকা শরীরচর্চা বা একান্তে কিছু সময় কাটানো উপকারী হবে। সব মিলিয়ে, নিজের রাগ ও অহং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই সিংহ রাশির জন্য এই সময়টা উন্নতি ও সাফল্যের পথে ঘুরে যেতে পারে।



♍ কন্যা 

কন্যা রাশির জন্য এই সময়টা বেশ ঘটনাবহুল হতে চলেছে, বিশেষ করে যাঁরা বিধানসভা, আদালত, অর্থবিভাগ, পৌরসভা, সমবায়, পঞ্চায়েত বা আইটি–এআই সংক্রান্ত কাজে যুক্ত। কাজের চাপ বাড়বে, দায়িত্বের পরিধিও বিস্তৃত হবে, ফলে একের পর এক পরিস্থিতি সামলাতে হতে পারে। এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো নিয়ম মেনে চলা এবং কোনো কিছু হালকাভাবে না নেওয়া। সামান্য অসতর্কতা বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে, আবার সতর্কতা আপনাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখবে।

পারিবারিক দিক থেকে সন্তানের সঙ্গে মতান্তর হতে পারে এবং তার আচরণ পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এই সময় কঠোরতা নয়, বরং ধৈর্য ধরে কথা বলাই বেশি ফলদায়ক হবে। সন্তানের কথা না শুনে শুধু শাসন করলে দূরত্ব বাড়তে পারে, তাই বোঝানোর পথটাই বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের। একই সঙ্গে সতর্ক থাকার বিষয় হলো মাতৃকুলের কোনো খুব কাছের ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে আর্থিক বা বৈষয়িক ক্ষতির সম্ভাবনা। অন্ধ বিশ্বাস না করে যেকোনো লেনদেন বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্যের দিক থেকে অস্থি, পেট, নিম্নাঙ্গ বা স্নায়বিক সমস্যাকে অবহেলা করলে ভোগান্তি বাড়তে পারে। কাজের চাপে নিজের শরীরের সংকেত উপেক্ষা করলে পরে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই নিয়মিত বিশ্রাম, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনা এখন খুব দরকার। আর্থিক দিক থেকে উপার্জনের জন্য বাড়তি চাপ অনুভূত হতে পারে, কিন্তু ধীরে ধীরে পরিশ্রমের ফল মিলবে।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে সময়টা শুভ। যাঁরা পড়াশোনা বা নতুন কিছু শেখার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে কথা বলা ও আচরণে বিশেষ সংযম জরুরি, কারণ একটি ভুল মন্তব্যই বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে। সাহিত্যিকদের জন্য সময়টা ইতিবাচক, কারণ তাঁদের উপার্জন বাড়তে পারে এবং কাজের জন্য সম্মান ও সুনামও মিলবে। সব মিলিয়ে, সতর্কতা, ধৈর্য আর বাস্তব সিদ্ধান্তই কন্যা রাশির এই সময়টা সামলানোর মূল চাবিকাঠি।



♎ তুলা 

তুলা রাশির জন্য এই সময়টা শারীরিক ও মানসিক—দু’দিক থেকেই একটু চাপের হতে পারে। কোমর ও পায়ের সমস্যা, পুরোনো কোনো আঘাতের ব্যথা, সর্দি-কাশি বা প্রস্রাব সংক্রান্ত অসুবিধা মাথাচাড়া দিতে পারে। এগুলোকে হালকাভাবে নিলে ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তাই সময়মতো চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত জলপান খুব জরুরি। শরীর ভালো না থাকলে মনও অস্থির হয়ে পড়ে, তাই স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই সময়ের সবচেয়ে বাস্তব সমাধান।

পেশাগত দিক থেকে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবীদের জন্য সময়টা তুলনামূলকভাবে অনুকূল। কাজের স্বীকৃতি বা সমর্থন মিলতে পারে। তবে কর্মক্ষেত্রে কিছু জটিলতা বাড়তে পারে, যার ফলে মানসিক অস্থিরতা ও হতাশা তৈরি হবে। এই সময়ে শর্টকাট বা চালাকির পথ ধরলে উল্টো অপদস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সোজাসাপ্টা ও স্বচ্ছভাবে কাজ করাই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ রাখবে। যারা কাজ বা পেশা বদলের চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্য আশার আলো দেখা যেতে পারে, যদিও তা পেতে সময় ও ধৈর্য লাগবে।

পারিবারিক জীবনে আপনি সৎভাবে দায়িত্ব পালন বা পরোপকার করলেও তার প্রকৃত মূল্য না পাওয়ার অনুভূতি মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে। এখানে প্রত্যাশা কমিয়ে নিজের মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়াই ভালো। সবাই সব সময় আপনার অবদান বুঝবে—এমন আশা করলে হতাশাই বাড়বে। পড়াশোনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কিছু বাধা আসতে পারে, ফলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হবে। ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করে এগোলে এই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

মানসিক উত্তেজনা এই সময় আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠতে পারে, তাই নিজেকে শান্ত রাখতে সচেতন প্রয়াস দরকার। ধ্যান, হালকা ব্যায়াম বা নিজের পছন্দের কোনো সৃজনশীল কাজে সময় দিলে মন অনেকটাই স্থির হবে। শিল্পী ও সাহিত্যিকদের জন্য সময়টা আনন্দের, কারণ বিশেষ পুরস্কার বা বড় স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, সততা ও ধৈর্য ধরে এগোলে এই কঠিন সময়ের মধ্যেও ইতিবাচক ফল বের করে নেওয়া সম্ভব।



♏ বৃশ্চিক 

বৃশ্চিক রাশির জন্য এই সময়টা সতর্কতা আর সংযমের পরীক্ষা নিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে দলীয় উচ্চপদ বা বিশেষ সম্মান পাওয়ার পথে হঠাৎ বিশ্বাসঘাতকতার অভিজ্ঞতা হতে পারে। খুব কাছের মানুষই হয়তো প্রত্যাশার ঠিক উল্টো আচরণ করতে পারে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেগ নয়, বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করা সবচেয়ে নিরাপদ পথ। ঠান্ডা মাথায় ধীরে এগোলে ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

স্বাস্থ্যের দিক থেকে পুরোনো একাধিক রোগ আবার বাড়তে পারে, যার ফলে শারীরিক কষ্ট ও ক্লান্তি তৈরি হবে। অসাবধানতায় পড়ে যাওয়া বা আঘাত লেগে রক্তপাতের যোগও রয়েছে, তাই এই সময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বা তাড়াহুড়ো করে চলাফেরা এড়িয়ে চলাই ভালো। নিয়মিত চিকিৎসা ও বিশ্রামকে অবহেলা করলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ব্যবসার ক্ষেত্রেও সাবধানতা জরুরি, কারণ শত্রুর ফাঁদে পা দিয়ে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা আছে। কোনো চুক্তি, বিনিয়োগ বা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নেওয়াই বাস্তবসম্মত সমাধান।

অন্যদিকে কিছু পেশায় যুক্তদের জন্য সময়টা ইতিবাচক। সমরাস্ত্রবিদ, সমর বিশেষজ্ঞ বা প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীদের কাজে সাফল্য আসতে পারে এবং সুনামও বাড়বে। উচ্চতর পেশাদারি শিক্ষা বা বাস্তুশাস্ত্র নিয়ে যাঁরা চর্চা করছেন, তাঁদের জন্য এই সপ্তাহটি বিশেষ শুভ, কারণ মনোযোগ ও বোঝার ক্ষমতা বাড়বে। এই সময় আধ্যাত্মিকতার দিকেও আকর্ষণ তৈরি হতে পারে, যা মানসিক শান্তি এনে দেবে এবং ভেতর থেকে শক্ত হতে সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে, বাহ্যিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলা আর অন্তর্দৃষ্টির উপর ভরসা রাখলেই এই সময়টা আপনি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারবেন।



♐ ধনু 

ধনু রাশির জন্য এই সময়টা অনেক দিক থেকে ইতিবাচক হলেও নিজের শরীর ও মনের দিকে বাড়তি যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন থাকবে। আপনার মধুর বাক্য, সংযত আচরণ এবং অতীতের অভিজ্ঞতা এই সময়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে। যাঁরা আপনার বিরুদ্ধে কথা বলার বা গোপনে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের ষড়যন্ত্র ধীরে ধীরে ব্যর্থ হবে এবং উল্টোভাবে আপনার সাফল্য ও সুনাম আরও ছড়িয়ে পড়বে। কাজের জায়গায় বা সমাজে আপনার ক্ষমতা, দায়িত্ব ও মর্যাদা বাড়ার যোগ রয়েছে, যা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

রাজনীতি, চিকিৎসা, আইন বা বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়তে পারে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে, তাই অহং না দেখিয়ে সম্পর্কগুলোকে যত্ন করে আগলে রাখাই বুদ্ধিমানের। গবেষণার সঙ্গে যুক্তদের জন্য সময়টা খুবই ভালো, কারণ দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল সামনে আসতে পারে। যাঁরা নেতৃত্বস্থানীয় বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রেও সাফল্য ও সুনাম বাড়বে।

তবে চলাফেরার সময় একটু সতর্ক থাকা জরুরি। অসাবধানতায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা হতে পারে। স্বাস্থ্যের দিক থেকে সর্দি, কাশি, হাঁপানি, বাত বা পেটের সমস্যায় ভোগান্তি বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি নিজের যত্নে অবহেলা করেন। নিয়মিত বিশ্রাম, সময়মতো ওষুধ এবং খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা রাখলে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আর্থিক দিক থেকে সময়টা শক্তিশালী। একাধিক উৎস থেকে অর্থপ্রাপ্তির যোগ রয়েছে, ফলে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। তবে টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে খরচের দিকেও নজর রাখা দরকার, না হলে মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। এই সময় সাধুসঙ্গ বা আধ্যাত্মিক চিন্তায় মন দিলে ভেতরের শান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বাইরে সব কিছু ভালো চললেও মনে অস্থিরতা থাকতে পারে, তাই নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটানোই এই সময়ের সবচেয়ে বাস্তব ও কার্যকর সমাধান।



♑ মকর 

মকর রাশির জন্য এই সময়টা অনেক দিক থেকেই স্থিতিশীল ও অগ্রগতিময় হতে চলেছে। বিশেষ করে শিল্পী, সাহিত্যিক ও যন্ত্রবিদদের জন্য সপ্তাহটি খুবই শুভ। কাজের পরিধি বাড়বে, নতুন সুযোগ আসবে এবং তার সঙ্গে উপার্জনও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। যাঁরা অফিসে চাকরি করেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের কাজের বাধা বা আটকে থাকা বিষয়গুলো একে একে মিটে যেতে শুরু করবে, ফলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে। প্রশাসনিক কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা যেসব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে এতদিন দ্বিধায় ছিলেন, সেগুলো এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিতে পারবেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেও মুক্তি মিলবে।

ব্যবসার ক্ষেত্রেও সময়টা অনুকূল। ধীরে হলেও কাজের গতি বাড়বে এবং আর্থিক স্থিতি আগের তুলনায় ভালো হবে। নতুন কোনো ভূসম্পত্তি কেনার যোগ রয়েছে, তবে এখানেও বাস্তব বুদ্ধি জরুরি। যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থির মস্তিষ্কে সব দিক ভেবে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো ফল দেবে। তাড়াহুড়ো না করে পরিকল্পনা মেনে এগোলে ভবিষ্যতে লাভ নিশ্চিত হবে।

দাম্পত্য জীবনে সুখ ও বোঝাপড়া বজায় থাকবে, যা মানসিক শান্তির বড় উৎস হয়ে উঠবে। সন্তানের কোনো সাফল্যে আপনার গৌরব ও আনন্দ বাড়বে। কাজের সূত্রে দূরে কোথাও যেতে হতে পারে, যা নতুন অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের সুযোগ এনে দিতে পারে। শিক্ষক, অধ্যাপক, পরিবহণকর্মী এবং বিজ্ঞাপন ও রাসায়নিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের জন্য সময়টা বিশেষ উন্নতির, কারণ তাঁদের কাজে সুনাম ও অগ্রগতি দুটোই বাড়ার যোগ আছে। সব মিলিয়ে, ধৈর্য, বাস্তব সিদ্ধান্ত ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মকর রাশির এই সময়টা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।



♒ কুম্ভ 

কুম্ভ রাশির জন্য এই সময়টা আবেগ, বাস্তবতা আর সংযম—এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার শিক্ষা দেবে। খুব কাছের কোনো মানুষের বিয়েতে আপনি মন খুলে আর্থিক সাহায্য করলেও তার যথাযথ মূল্যায়ন নাও পেতে পারেন, এমনকি হেনস্তা বা গঞ্জনার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এতে মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক, তবে ভবিষ্যতে এমন বিষয়ে নিজের সীমা স্পষ্ট রাখা জরুরি। সাহায্য করবেন, কিন্তু নিজের সম্মান ও মানসিক শান্তির বিনিময়ে নয়—এই বোধটাই এই সময়ের সবচেয়ে বাস্তব শিক্ষা।

জমি, বাড়ি বা কোনো দামি জিনিস কেনার আগে ভালোভাবে বিচার-বিবেচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে পরে অনুতাপ হতে পারে, তাই কাগজপত্র, আইনি দিক ও আর্থিক সক্ষমতা—সব কিছু খতিয়ে দেখে তবেই এগোনোই নিরাপদ পথ। পারিবারিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের যোগ রয়েছে। কোনো গুণী ও বিচক্ষণ ব্যক্তির সহযোগিতায় পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং ভুল বোঝাবুঝি অনেকটাই কাটবে।

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের কারও গোপন বিরোধিতা বা শত্রুতার কারণে কাজে বাধা আসতে পারে। এই সময় তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নেওয়াই বুদ্ধিমানের। ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলে আপনি ভুল পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে পারবেন। মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে, যা মানসিকভাবে আপনাকে অনেকটা স্থির ও শক্ত করবে।

ব্যবসা ও পেশাগত জীবনে ধীরে ধীরে উন্নতির ধারা তৈরি হবে। আর্থিক ও বৈষয়িক দিকেও অগ্রগতি দেখা যাবে, ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা বাড়বে। বুধবারের পর থেকে পড়াশোনা বা বিদ্যার ক্ষেত্রে যে বাধা বা অমনোযোগ ছিল, তা কেটে যেতে শুরু করবে। তবে এই সব ভালো দিক বজায় রাখতে হলে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত বিশ্রাম, সঠিক খাবার আর মানসিক চাপ কমাতে সচেতন হলে কুম্ভ রাশির এই সময়টা স্থায়ী উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারে।



♓ মীন 

মীন রাশির জন্য এই সময়টা আবেগের ওঠানামায় ভরা হতে পারে এবং সেই আবেগ যদি জেদ বা হঠকারী সিদ্ধান্তের রূপ নেয়, তাহলে পারিবারিক পরিবেশ সহজেই ঘোরালো হয়ে উঠতে পারে। এই সময় নিজের কথা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বদলে একটু পিছু হটে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে কিছু ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড় দিলেও পারিবারিক শান্তি বজায় রাখা ভবিষ্যতে আপনাকেই মানসিকভাবে শক্ত রাখবে।

মায়ের শারীরিক অসুবিধা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে, যা আপনার মনে চাপ তৈরি করবে। এখানে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত চিকিৎসা ও যত্নের দিকে মন দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। একই সঙ্গে পিতার ক্ষেত্রে আঘাত বা রক্তপাতের যোগ থাকায় তাঁকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পরিবারের এই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো আপনার মনকে অস্থির করে তুলতে পারে, তাই নিজের অনুভূতিকে চেপে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উপকারী হবে।

পড়াশোনার দিক থেকে সময়টা ভালো। উচ্চশিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্যের যোগ রয়েছে, বিশেষ করে যদি আপনি নিয়মিত প্রস্তুতি বজায় রাখতে পারেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে বিপরীত লিঙ্গের কোনো প্রলোভনে জড়িয়ে পড়লে অর্থ ও সম্মান দুটোই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই এই সময় আবেগের চেয়ে বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

কর্মজীবন ও ব্যবসার ক্ষেত্রে উন্নতির ইঙ্গিত রয়েছে। আইটি, এআই বা গোয়েন্দা কাজের সঙ্গে যুক্তদের জন্য সময়টা বিশেষ শুভ, কারণ তাঁদের দক্ষতা ও কাজের স্বীকৃতি মিলতে পারে। আর্থিক দিক থেকে উন্নতি হলেও স্বাস্থ্যের অবস্থা খুব একটা ভালো নাও থাকতে পারে। মানসিক চাঞ্চল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল হলে কাজের আনন্দ কমে যেতে পারে। তাই যতই ব্যস্ততা থাকুক, বিশ্রাম, সঠিক খাদ্য ও মানসিক শান্তির দিকে নজর না দিলে এই উন্নতিগুলো উপভোগ করা কঠিন হয়ে উঠবে।