সাপ্তাহিক রাশিফলঃ ০৯ থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল - অভিজ্ঞ জ্যোতিষী দ্বারা প্রস্তুত
♈ মেষ
মেষ রাশির জন্য এই সময়টা একেবারে সাদা–কালো নয়, বরং ধূসর বলা যায়। পরিবারে বিষয়–সম্পত্তি বা ভাগাভাগি সংক্রান্ত আলোচনা থেকে মতের অমিল তৈরি হতে পারে, আর সেটা যদি সময়মতো সামলানো না যায় তাহলে সম্পর্কের মধ্যে একটা অদৃশ্য ঠান্ডাভাব ঢুকে পড়তে পারে। এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং “আমি ঠিক” প্রমাণ করার চেয়ে সম্পর্কটা ঠিক রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। একটু নীরব থাকা আর ধীরে কথা বলাই অনেক বড় ঝামেলা ঠেকাতে পারে।
সন্তান সংক্রান্ত বিষয় আপনার মনকে বেশি নড়বড়ে করে দিতে পারে। তার আচরণ, সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়বে এবং তার জন্য কিছু অপ্রত্যাশিত খরচও হতে পারে। মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বুঝিয়ে বলাই এখানে সবচেয়ে কার্যকর। সন্তানকে বিশ্বাস করার পাশাপাশি তার সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বললে মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে।
কর্মজীবনে কিন্তু ছবিটা তুলনামূলক ভালো। বিশেষ করে যারা সেলস বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তারা নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবেন এবং তার ফলে সুনাম বাড়বে। নতুন ক্লায়েন্ট, নতুন বাজার বা ব্যবসা বাড়ানোর ভাবনা মাথায় আসবে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, হিসাব করে এগোনো খুব দরকার। সব টাকা একসঙ্গে ঢেলে না দিয়ে ধাপে ধাপে এগোনোই নিরাপদ পথ।
আয়ের জায়গাটা খুব উজ্জ্বল না হলেও চলার মতো থাকবে। বড় লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে যা আছে সেটাকে স্থিতিশীল রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই সময় সামাজিক বা কল্যাণমূলক কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেললে এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি পাবেন, যা পারিবারিক চাপ সামলাতে আপনাকে ভেতর থেকে শক্ত করবে।
যারা উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য সময়টা আশাব্যঞ্জক। পড়াশোনা বা গবেষণার ফল হিসেবে চাকরি বা কাজের সুযোগ আসতে পারে। ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলে তার বাস্তব ফল পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য দিকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। নার্ভের সমস্যা বা বাতজ ব্যথা বাড়তে পারে, হাঁটাচলায় অস্বস্তি আসতে পারে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, গরম সেঁক আর বিশ্রাম এখানে খুব কাজে দেবে, ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তনও প্রয়োজন।
ভ্রমণের যোগ আছে, সেটা কাজের হোক বা মানসিক চাপে একটু দূরে যাওয়ার জন্য। এই যাত্রা আপনার মনকে হালকা করবে এবং অনেক বিষয় নতুন চোখে ভাবার সুযোগ দেবে। সব মিলিয়ে, এই সময়টা আপনাকে শেখাবে কোথায় শক্ত হতে হবে আর কোথায় নরম হওয়াই আসল শক্তি।
♉ বৃষ
বৃষ রাশির জন্য এই সময়টা মূলত নিজের বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার শেখানোর সময়। কর্মক্ষেত্র বা ব্যবসায় এমন কিছু মানুষের মুখোমুখি হতে পারেন যারা কৌশলী বা একটু ধূর্ত প্রকৃতির, কিন্তু আপনি যদি আবেগে না ভেসে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বোঝেন, তাহলে তাদের চাল খুব সহজেই ভেস্তে যাবে। এর ফলেই কাজের উন্নতি হবে এবং উপার্জনও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে। এখানে বাস্তবসম্মত সমাধান হলো—সবাইকে বিশ্বাস না করে তথ্য যাচাই করা এবং নিজের পরিকল্পনা নিজের মধ্যেই কিছুটা সীমাবদ্ধ রাখা।
আপনার মৌলিক চিন্তাধারা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আর লেগে থাকার ক্ষমতা এমন সব কঠিন কাজেও সাফল্য এনে দেবে যেখানে আগে সন্দেহ ছিল। এর ফলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে, কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস যেন অহংকারে না বদলে যায়, সেটা খুব জরুরি। কারণ এই সময় অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষ বা “আমি পারবই” মনোভাব থেকে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। বড় কিছু করার আগে একবার বাস্তব পরিস্থিতি আর ঝুঁকির দিকটা ভেবে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
কর্মসূত্রে দূর রাজ্য বা বিদেশ যাত্রার সুযোগ আসতে পারে, যা আপনার পেশাগত জীবনে নতুন দরজা খুলে দেবে। এই যাত্রা শুধু জায়গা বদল নয়, চিন্তাভাবনারও প্রসার ঘটাবে। নতুন কাজের ধরণ, নতুন মানুষ আর ভিন্ন পরিবেশ আপনার দক্ষতাকে আরও শানিত করবে। সন্তানের দিক থেকেও মন ভালো হওয়ার মতো খবর আসতে পারে। পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রে তার বিশেষ সাফল্য আপনাকে মানসিক তৃপ্তি দেবে এবং আপনার পরিশ্রম যে বৃথা যায়নি, সেই অনুভূতিও জাগাবে।
এই সময় আপনার বহুমুখী প্রতিভা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আপনি যেটা ভালো পারেন, সেটার জন্য স্বীকৃতি পেতে পারেন এবং সুনাম বাড়বে। বিশেষ করে পেশাদারি কাজকর্মে এমন কিছু সাফল্য আসতে পারে যা অন্যদের চোখে আপনাকে আলাদা করে তুলবে। অর্থভাগ্য মোটের উপর অনুকূল থাকলেও খরচের লাগাম নিজের হাতেই রাখা ভালো, যাতে হঠাৎ কোনো ধাক্কা এলে সমস্যা না হয়।
যারা নৃত্য, নাটক বা চারুকলার সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য সময়টা খুবই ইতিবাচক। নিয়মিত অনুশীলন করলে দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনই সেখান থেকে উপার্জনের পথও খুলে যেতে পারে। এর পাশাপাশি মনে আধ্যাত্মিক টান বাড়তে পারে, তীর্থ ভ্রমণের পরিকল্পনাও বাস্তব রূপ নিতে পারে। এই ভ্রমণ আপনাকে ভেতর থেকে শান্ত করবে এবং জীবনের দৌড়ঝাঁপের মধ্যে একটু থামার সুযোগ দেবে। সব মিলিয়ে, এই সময়টা আপনার জন্য উন্নতির, তবে সেই উন্নতি টেকসই করতে হলে বাস্তববোধ আর সংযমই হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
♊ মিথুন
মিথুন রাশির জন্য এই সময়টা মানসিক দিক থেকে একটু পরীক্ষার। বিশেষ করে সন্তানের আচরণ আপনাকে বেশি চিন্তায় ফেলতে পারে। তার উচ্ছৃঙ্খল বা দায়িত্বহীন মনোভাব ঘরের পরিবেশে অশান্তি তৈরি করতে পারে এবং আপনি হয়তো বুঝতে পারবেন না, কোথায় কড়াকড়ি করবেন আর কোথায় ছাড় দেবেন। এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো রাগ দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে না গিয়ে, শান্তভাবে নিয়ম আর দায়িত্বের কথা বারবার বোঝানো। একদিনে বদল আশা না করে ধীরে ধীরে বিশ্বাস আর শাসনের ভারসাম্য তৈরি করাই কাজ দেবে।
কর্মক্ষেত্রে যে সুখবরটির জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছেন, সেটি একটু দেরিতে এলেও আসবে। এই বিলম্ব আপনাকে হতাশ করতে পারে, কিন্তু এই সময়টা ধৈর্য ধরার পরীক্ষা। যারা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন, তাদের জন্য খবরটা তুলনামূলক ভালো—চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে, ফলে কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে বাড়তি আয়ের কোনও পথ খুলতে পারে মনে হবে, তবে সেটাকে পাকাপোক্ত করতে হলে পরিকল্পনা আর হিসাব খুব জরুরি।
উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তিগত প্রশিক্ষণের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের জন্য সময়টা আশাব্যঞ্জক। পড়াশোনা বা স্কিল বাড়ানোর প্রচেষ্টা বাস্তব ফল দিতে পারে এবং তার সূত্রে কাজের সুযোগও আসতে পারে। এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে নিজের লক্ষ্যটা পরিষ্কার রাখা দরকার, নাহলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনে প্রিয়জনের বিয়ের আলোচনা চললেও আশপাশের মানুষজনের কানভাঙানি বা অযথা মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। এখানে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো বাইরের কথায় কান না দিয়ে, পরিবারের ভেতরে খোলাখুলি কথা বলা।
কেনা–বেচার ব্যাপারে এই সময়টা খুব সাবধানতার। চুক্তি বা লেনদেনে ছোটখাটো বাধা আসতে পারে, তাই তাড়াহুড়ো করে সই করা বা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। ঋণ শোধ সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি জটিলতা মানসিক চাপ বাড়াতে পারে, তাই অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিয়ে ধাপে ধাপে এগোনোই নিরাপদ। শরীর ও মন দুটোই একটু দুর্বল থাকতে পারে, ঘুমের অভাব আর অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। নিজেকে সময় দিন, প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নিন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কথাবার্তায় সংযত থাকা। এই সময় একটুখানি কড়া কথা অনেক বড় ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে, তাই মৃদু ভাষাই আপনার সবচেয়ে বড় রক্ষা-কবচ।
♋ কর্কট
কর্কট রাশির জন্য এই সময়টা চলমান পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময়। কাজের সূত্রে একাধিকবার দূর রাজ্য বা বিদেশে যাতায়াতের সম্ভাবনা আছে, যা শুনতে আকর্ষণীয় হলেও শরীর আর মন দুটোর উপরেই বাড়তি চাপ ফেলতে পারে। তাই সুযোগ এলে পরিকল্পনা করে এগোনো দরকার, যাতে কাজের সঙ্গে বিশ্রামেরও জায়গা থাকে। ব্যবসা সম্প্রসারণের ভাবনা মাথায় এলেও এই মুহূর্তে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ না করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। আগে যা চলছে, সেটাকে স্থিতিশীল করা আর ঝুঁকি কমানোই ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ ভিত্তি তৈরি করবে।
সামাজিক বা দলগত কাজে আপনি আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করলেও তার প্রতিদান হিসেবে প্রশংসার বদলে উপহাস বা অবমূল্যায়নের মুখে পড়তে পারেন। এতে মনে কষ্ট জমতে পারে এবং “ভালো কাজের ফল এমন কেন” এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় আসবে। এখানে নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে সব স্বীকৃতি সঙ্গে সঙ্গে আসে না, আর সব মানুষ আপনার মূল্য বুঝবেও না। নিজের নৈতিক অবস্থান ঠিক রেখে কাজ করে যাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে মানসিক শক্তি দেবে।
এই সপ্তাহটা বিশেষভাবে শুভ চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও অভিনেতাদের জন্য। পেশাগত ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ বা স্বীকৃতি আসতে পারে। তবে যেই পেশাতেই থাকুন না কেন, শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া খুব দরকার। অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ, মানসিক চাপ বা অবহেলা থেকে সমস্যা বাড়তে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম, খাবার আর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এখানে খুব কাজে দেবে। ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক পথে ঝোঁক বাড়লে মন কিছুটা স্থির হবে এবং জীবনের অনেক প্রশ্নের উত্তর নিজেই স্পষ্ট হতে শুরু করবে।
প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সময়টা সংবেদনশীল। কারও কথায় বা আচরণে গুরুতর মানসিক আঘাত পেতে পারেন, যার রেশ কিছুদিন থাকবে। এই সময় নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে, বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তব সমাধান। নিজেকে একা ভাবলে কষ্ট আরও গভীর হবে। গুণী ও সজ্জন মানুষের সান্নিধ্যে এলে ধীরে ধীরে আত্মিক শান্তি ফিরে আসবে এবং নিজের মূল্য আবার নতুন করে উপলব্ধি করবেন।
পরিবার নিয়ে কাছাকাছি কোথাও ভ্রমণের যে বাধা বা দেরি ছিল, তা কাটতে পারে এবং এই ছোট ভ্রমণ মানসিকভাবে আপনাকে হালকা করবে। পাশাপাশি জ্যোতিষ, চিকিৎসা বা সংখ্যাতত্ত্বের মতো বিষয়গুলিতে যাঁরা অনুশীলন করেন, তাঁদের জন্য সময়টা ফলপ্রসূ। এই চর্চাগুলি শুধু জ্ঞানই বাড়াবে না, বরং আপনার ভেতরের অস্থিরতাকেও ধীরে ধীরে শান্ত করতে সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে, এই সময়টা আপনাকে শিখাবে কখন থামতে হয়, কখন ছেড়ে দিতে হয় এবং কোথায় নিজের শান্তিটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
♌ সিংহ
সিংহ রাশির জন্য এই সময়টা কিছুটা দ্বৈত অভিজ্ঞতার। ব্যবসায় আপনি আগের তুলনায় বেশি অর্থ বিনিয়োগ করলেও প্রত্যাশামতো ফল না পাওয়ায় মনে হতাশা আসতে পারে। এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো আরও টাকা ঢালার আগে একবার থেমে ব্যবসার কাঠামো, বাজারের চাহিদা আর নিজের কৌশল নতুন করে যাচাই করা। কখনও কখনও সাফল্যের অভাব মানে ব্যর্থতা নয়, বরং দিক বদলের ইঙ্গিত। প্রতিদ্বন্দ্বীদের কূটচাল ব্যবসার অগ্রগতিতে বাধা তৈরি করতে পারে, তাই গোপন পরিকল্পনা আর আইনি দিকটা শক্ত রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে সাংগঠনিক বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বড় সাফল্য আসতে পারে। আপনি যে দায়িত্বটা সামলাচ্ছেন, সেখানে আপনার নেতৃত্ব আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা চোখে পড়বে, যার ফলে খ্যাতি ও কর্তৃত্ব দুটোই বাড়বে। এই জায়গায় সাফল্য আপনাকে মানসিক জোর দেবে, তবে অহংকার নয়, সংযম রাখাই দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক। সঠিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগোলে এই ক্ষমতাবৃদ্ধি স্থায়ী রূপ পাবে।
দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল বা ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়বে না। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া আর দায়িত্ববোধের কারণে পরিস্থিতি মোটামুটি শুভই থাকবে। একে অপরকে দোষারোপ না করে, সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি কথা বললে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হতে পারে। সন্তানের স্বাস্থ্যের বিষয়টি আপনাকে মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখবে, তাই ছোটখাটো উপসর্গও অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তব সিদ্ধান্ত।
সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের জন্য সময়টা বিশেষভাবে উজ্জ্বল। বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে এবং রাজ্য স্তরে পুরস্কার বা স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সাফল্য আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং ভবিষ্যতের পথ আরও পরিষ্কার করে দেবে। তবে আর্থিক দিকটা কিছুটা অগোছালো থাকতে পারে। আয় আর ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হলে চাপ বাড়বে, তাই এই সময় অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো আর বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মানসিক অস্থিরতা এই সময় আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বা আবেগে ভেসে যাওয়ার বদলে, একটু থেমে ভাবলে অনেক ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। পড়াশোনা বা বিদ্যার ক্ষেত্রে সাময়িক বাধা আসতে পারে, মনোযোগ ছড়িয়ে গেলে ফলও পিছিয়ে যেতে পারে। নিজেকে খুব বেশি চাপ না দিয়ে ধীরে, নিয়মিত চেষ্টাই এখানে একমাত্র কার্যকর সমাধান। এই সময়টা আপনাকে শেখাবে, শক্ত হাতে নেতৃত্ব দেওয়া আর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার মধ্যেই আসল সিংহসুলভ ভারসাম্য লুকিয়ে আছে।
♍ কন্যা
কন্যা রাশির জন্য এই সময়টা সতর্কতা আর সংযমের শিক্ষা দিচ্ছে। কাজ হাসিল করার জন্য যদি অতিরিক্ত চালাকি বা শর্টকাটের পথে হাঁটেন, তাহলে সেই কৌশলই উল্টে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। তাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পথ হলো সোজাসাপটা ভাবে, নিয়ম মেনে কাজ করা। শুরুতে কিছু অসুবিধা বা বাধা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো কমতে থাকবে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আপনার অনুকূলে আসবে।
এই সময় মানসিক অস্থিরতা আর উত্তেজনা খুব সহজেই আপনাকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সন্তানের সঙ্গে মতের তীব্র সংঘর্ষ হলে ঘরের পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। এখানে জেতার চেষ্টা না করে বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। একটু নীরব থাকা, পরে ঠান্ডা মাথায় কথা বলা—এই ছোট অভ্যাসটাই বড় অশান্তি আটকাতে পারে। একইভাবে কর্মক্ষেত্রে উপরওয়ালার সঙ্গে মতপার্থক্য এড়িয়ে চলা জরুরি। নিজের বক্তব্য রাখলেও ভাষা আর সময় বেছে নেওয়াই আপনাকে নিরাপদ রাখবে।
ঘরে বা বাইরে যে কোনও ধরনের বিবাদ-বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখাই এই সময়ের সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যের ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লে অকারণে মানসিক চাপ বাড়বে এবং কাজের ক্ষতিও হতে পারে। আর্থিক লেনদেনে বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার। কাউকে ধার দেওয়া, বড় অঙ্কের লেনদেন বা মৌখিক চুক্তি এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সব কিছু লিখিতভাবে রাখা আর প্রয়োজনের বাইরে টাকা না জড়ানোই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
ভালো দিকটা হলো, অর্থ উপার্জনের দিক থেকে সময়টা মোটের উপর অনুকূল। পরিশ্রমের ফল পাবেন এবং আয় বাড়ার সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী বা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সময়টা খুবই ইতিবাচক। পড়াশোনা বা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসতে পারে, যা ভবিষ্যতের পথ আরও পরিষ্কার করবে। পাশাপাশি ধর্ম বা আধ্যাত্মিক বিষয়ে মন দিলে মানসিক শান্তি পাবেন এবং ভেতরের অস্থিরতা কিছুটা হলেও কমবে।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কথা আর ব্যবহারে সংযম। এই সময় একটি অসাবধানী কথা সম্পর্ক, কাজ বা সম্মান—সবকিছুকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই ধীরে কথা বলা, ভেবে প্রতিক্রিয়া দেওয়াই হবে আপনার সবচেয়ে বড় রক্ষা-কবচ। এই সময়টা আপনাকে শেখাবে, নীরবতা আর সততাই কখনও কখনও সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
♎ তুলা
তুলা রাশির জন্য এই সময়টা একদিকে চাপের, আবার অন্যদিকে সম্ভাবনারও। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের আচরণ আপনার মন খারাপ করে দিতে পারে। ছোটখাটো কথায় বাকবিতণ্ডা বা ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার আশঙ্কা আছে, আর এতে কাজের পরিবেশটা কিছুদিনের জন্য অস্বস্তিকর লাগতে পারে। এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো আবেগে প্রতিক্রিয়া না দিয়ে নিজের কাজের মান আর দায়িত্ববোধের ওপর মন দেওয়া। অযথা তর্কে জড়ালে ক্ষতি আপনারই বেশি হবে।
এই সব বাধা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে একাধিক সমস্যা কাটিয়ে আপনি কাজে সাফল্য পাবেন এবং পদোন্নতির সম্ভাবনাও তৈরি হবে। আপনার পরিশ্রম আর দক্ষতা শেষ পর্যন্ত চোখে পড়বে, যদিও তার আগে আপনাকে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হতে পারে। সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের জন্য সময়টা বিশেষভাবে ভালো। আপনার কাজের জন্য সম্মান বা স্বীকৃতি আসতে পারে, যা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। প্রশাসনিক বা বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও এই সময়টা শুভ, দায়িত্ব বৃদ্ধি বা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের যোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে একটু বাড়তি সতর্কতা দরকার। একাধিক ছোটখাটো রোগ একসঙ্গে বিরক্ত করতে পারে, ফলে শারীরিক আর মানসিক ক্লান্তি বাড়বে। শরীরে কোথাও পুরনো ক্ষত বা আঘাত থাকলে সেটাকে অবহেলা করবেন না, কারণ এই সময় সংক্রমণ বা জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত বিশ্রাম, ওষুধ আর নিজের শরীরের সিগন্যাল শোনা খুব জরুরি।
কাজ বা ব্যবসার কারণে ভিন রাজ্যে যেতে হতে পারে। এই যাত্রা প্রথমে ঝামেলার মনে হলেও ভবিষ্যতের জন্য উপকারী হতে পারে, তাই এটাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখাই ভালো। ব্যক্তিগত জীবনে জ্ঞাতিদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং তার জেরেই বাসস্থান বদলের চিন্তা মাথায় আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেগ নয়, বাস্তব পরিস্থিতি আর সুবিধা-অসুবিধা ভেবে দেখা দরকার।
ললিত কলার চর্চায় ধীরে ধীরে সাফল্য আসবে এবং সেখান থেকেও মানসিক তৃপ্তি পাবেন। উপার্জনের দিকটা খুব ঝলমলে না হলেও মোটের উপর শুভই থাকবে। খরচের লাগাম নিজের হাতে রাখলে আর্থিক চাপ এড়ানো সম্ভব। সব মিলিয়ে, এই সময়টা আপনাকে শেখাবে কিভাবে প্রতিকূল মানুষের মাঝেও নিজের ভারসাম্য ধরে রেখে ধীরে ধীরে নিজের জায়গাটা শক্ত করতে হয়।
♏ বৃশ্চিক
♐ ধনু
ধনু রাশির জন্য এই সময়টা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক এবং কর্মজীবনে নতুন দিশা দেখানোর মতো। কাজকর্মে একাধিক বড় সাফল্য আসতে পারে, যা আপনার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। কর্মস্থলে জায়গা বদল বা সম্পূর্ণ নতুন কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল, আর এই পরিবর্তন প্রথমে একটু অনিশ্চিত মনে হলেও ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পেশাদারি কাজে আপনার দক্ষতা আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সবার নজরে আসবে, যার ফলে সুনাম বাড়বে এবং আপনার অবস্থান আরও শক্ত হবে।
বিজ্ঞান গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সময়টা বিশেষভাবে উজ্জ্বল। উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসতে পারে এবং নামী বা প্রতিষ্ঠিত কোনও সংস্থায় কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিক পরিশ্রম বজায় রাখা খুব জরুরি। অর্থনৈতিক দিক থেকেও সময়টা মোটামুটি ভালো। একাধিক সূত্রে আয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং অল্প হলেও সঞ্চয় করতে পারবেন, যা আপনাকে মানসিক নিরাপত্তা দেবে।
স্বাস্থ্যের দিকটা কিন্তু একেবারে অবহেলা করা যাবে না। পেটের গোলমাল, হাঁপানি বা সর্দি-কাশির সমস্যা আপনাকে ভোগাতে পারে, বিশেষ করে যদি নিজের যত্ন না নেন। নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত জল আর বিশ্রাম এখানে খুব প্রয়োজন। ছোট উপসর্গকে হালকা ভেবে এড়িয়ে গেলে পরে ঝামেলা বাড়তে পারে, তাই সময়মতো সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
এই সময় আপনার মন আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকবে। বেদ, পুরাণ বা শাস্ত্রচর্চা এবং পূজাপাঠে আগ্রহ বাড়বে, যা মানসিক শান্তি দেবে এবং জীবনের লক্ষ্য নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করবে। গুণী ও জ্ঞানী মানুষের সান্নিধ্যে সময় কাটালে আনন্দের পাশাপাশি শেখার সুযোগও পাবেন। বিচারক, জনপ্রতিনিধি বা উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের জন্য এই সপ্তাহটি বিশেষভাবে অনুকূল, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাফল্য ও সম্মান দুটোই বৃদ্ধি পেতে পারে। সব মিলিয়ে, এই সময়টা আপনাকে শেখাবে কীভাবে সাফল্য, দায়িত্ব আর আত্মিক শান্তির মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যেতে হয়।
♑ মকর
মকর রাশির জন্য এই সময়টা বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সময়। বিশেষ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মিত্রবেশী শত্রুর গোপন কারসাজিতে বহুদিনের প্রত্যাশিত পদ বা দায়িত্ব হাতছাড়া হওয়ায় গভীর মনঃকষ্ট হতে পারে। এতে হতাশা স্বাভাবিক, তবে এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখানো বা আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেওয়া আপনার জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে। ঘরে-বাইরে কথাবার্তা ও আচরণে বিশেষ সংযম রাখা খুব জরুরি, কারণ সামান্য অসতর্কতা থেকেও সম্মানহানির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এই সময় উচ্চাশা আর আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নতুন করে পরিকল্পনা সাজানোই সবচেয়ে কার্যকর পথ। বড় স্বপ্ন দেখা দোষের নয়, কিন্তু তার সঙ্গে বাস্তব সময়, পরিবেশ আর শক্তির হিসাব না মিললে চাপ বাড়বে। লেখালেখি বা পাঠ্যপুস্তক রচনার সঙ্গে যুক্ত লেখক ও সাহিত্যিকদের কাজে সাময়িক বাধা আসতে পারে। এতে উৎসাহ কমে যেতে পারে, কিন্তু এটাকে বিরতি হিসেবে নিলে ভবিষ্যতের কাজ আরও পরিণত হবে।
মূল্যবান নথিপত্র, কাগজপত্র বা দামি জিনিসপত্র সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার। সামান্য অসাবধানতা থেকেও বড় ঝামেলা তৈরি হতে পারে। উৎপাদনমূলক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মেশিন সংক্রান্ত সমস্যায় কাজ ব্যাহত হতে পারে, তাই আগেভাগে রক্ষণাবেক্ষণ আর বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে প্রিন্টিং, বিজ্ঞাপন, যন্ত্রপাতি, পরিবহণ বা খনিজ দ্রব্য সংক্রান্ত ব্যবসার ক্ষেত্রে সময়টা তুলনামূলকভাবে শুভ। এখানে ধীরে হলেও অগ্রগতি হবে এবং তার ফল হিসেবে আর্থিক ও বৈষয়িক উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, এই সময়টা আপনাকে শেখাবে কীভাবে হতাশা আর প্রতিকূলতার মধ্যেও সংযম, বাস্তববোধ আর পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হয় এবং ধীরে ধীরে উন্নতির পথে এগোতে হয়।
♒ কুম্ভ
♓ মীন
মীন রাশির জন্য এই সময়টা আবেগ আর বাস্তবতার টানাপোড়েনের সময়। সপ্তাহের মধ্যভাগ থেকে হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত পরিবারে অশান্তির কারণ হতে পারে। আপনি হয়তো ভেবেই নেবেন যে ঠিক কাজটাই করছেন, কিন্তু অন্যরা সেটা বুঝতে না পেরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই এই সময় বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার থেমে ভাবা এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
বহুদিন ধরে মনে পুষে রাখা কোনও আশা পূরণ না হওয়ায় মন ভারী থাকতে পারে এবং তার থেকে হতাশা বা মনঃকষ্ট তৈরি হওয়াটাও স্বাভাবিক। এখানে নিজেকে দোষ না দিয়ে পরিস্থিতিটাকে বাস্তবভাবে দেখার চেষ্টা করুন। কখনও কখনও সময় ঠিক না হওয়াই ব্যর্থতার কারণ হয়, যোগ্যতার অভাব নয়। এই মানসিক চাপের মাঝেও কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় আপনার সাফল্য ও সুনাম বাড়বে, যা আপনাকে ভেতর থেকে শক্তি দেবে। ধীরে ধীরে শত্রু বা বিরোধীরা দুর্বল হবে এবং আপনার অবস্থান আরও মজবুত হবে।
দাম্পত্য জীবনে তৃতীয় পক্ষের কারণে চাপ তৈরি হতে পারে, সেটা মানুষ হোক বা পরিস্থিতি। এখানে সবচেয়ে জরুরি হলো স্বচ্ছতা আর খোলাখুলি কথা বলা। গোপনীয়তা বা ভুল বোঝাবুঝি জমে গেলে সম্পর্ক আরও দুর্বল হতে পারে। পড়াশোনা বা বিদ্যার ক্ষেত্রে মনোযোগ ওঠানামা করবে, তাই নিজেকে খুব বেশি দোষ না দিয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে এগোনোই কাজে দেবে।
অর্থভাগ্য মোটের উপর শুভ থাকবে। অর্থের জোগান থাকায় জমি বা যানবাহন কেনার সুযোগ আসতে পারে, তবে তাড়াহুড়ো না করে কাগজপত্র ভালোভাবে দেখে নেওয়াই নিরাপদ। শারীরিক দিক থেকে পুরনো কোনও রোগ আবার মাথাচাড়া দিতে পারে, ফলে শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি হবে। নিয়মিত চিকিৎসা আর বিশ্রাম এখানে খুব জরুরি। পাশাপাশি দংশক প্রাণী থেকে সাবধান থাকা দরকার, বিশেষ করে বাইরে বা রাতে চলাফেরার সময়।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাক্য আর ব্যবহারে সংযম। এই সময় একটি অসতর্ক কথা পরিবার, সম্পর্ক বা কর্মক্ষেত্রে অযথা ঝামেলা বাড়িয়ে দিতে পারে। ধীরে কথা বলা, ভেবে প্রতিক্রিয়া দেওয়া আর নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই সময়টা ভালোভাবে পার করার সবচেয়ে বাস্তব চাবিকাঠি।
