রাশিফলঃ ২রা থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬

             ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল -  অভিজ্ঞ জ্যোতিষী দ্বারা প্রস্তুত  

প্রতি রবিবার রাত ১২ টায় দেওয়া হয় সেই সপ্তাহের আগাম রাশিফল । ভবিষ্যৎ জেনে  - সতর্ক থাকুন 




♈ মেষ 

মেষ রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা একটু অস্থির হলেও পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। আপনার চিন্তাভাবনা ঘন ঘন বদলাতে পারে, যার ফলে বাড়িতে হোক বা বাইরে—কোনো কাজেই মন বসতে চাইবে না। আজ যে সিদ্ধান্তটা ঠিক মনে হচ্ছে, কাল সেটাই ভুল বলে মনে হতে পারে। এতে নিজের ওপর বিরক্তি বাড়তে পারে। বাস্তবসম্মত সমাধান হলো, একসঙ্গে অনেক কিছু ভাবার বদলে অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত এক রাত সময় দেওয়া। কারও সঙ্গে খোলাখুলি কথা বললে মাথার ভেতরের জট কিছুটা হলেও কাটবে।

সন্তানের ভবিষ্যৎ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনার চিন্তা বাড়বে। পড়াশোনা, কোচিং, দক্ষতা শেখানো বা অন্য কোনো সুযোগ করে দিতে গিয়ে খরচের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। এটা চাপের মনে হলেও মনে রাখবেন, এই খরচ পুরোপুরি অপচয় নয়—বরং পরিকল্পিত হলে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। তাই আবেগে নয়, হিসেব করে খরচ করুন এবং যেখানে সম্ভব সেখানে বিকল্প বা দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা আছে কি না দেখে নিন।

সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে শত্রু বা বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে খুব সাবধান হওয়া দরকার। মুখের কথার ওপর ভরসা না করে আইনি কাগজপত্র, শর্ত ও নিয়ম ভালোভাবে বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রয়োজনে আইনজ্ঞের পরামর্শ নিলে ভবিষ্যতে বড় ঝামেলা এড়ানো যাবে। তাড়াহুড়ো বা রাগের বশে সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

কর্মক্ষেত্রে কিছু বাধা বা বিলম্ব আসতে পারে। আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণেও কাজ আটকে যেতে পারে, যা মানসিক চাপ বাড়াবে। তবে এখানেই হতাশ হয়ে থেমে গেলে চলবে না। ধৈর্য ধরে নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সামলে যাবে। যারা ব্যবসা বা স্বাধীন পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য সময়টা তুলনামূলক ভালো। হঠাৎ করে নতুন সুযোগ, কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি বা লাভের পথ খুলে যেতে পারে। অর্থ উপার্জন মোটের ওপর সন্তোষজনক হবে, তাই আয় বাড়লেও তা ধরে রাখার জন্য সঞ্চয়ের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

স্বাস্থ্য নিয়ে বড় কোনো বিপদের যোগ নেই, যা স্বস্তির খবর। তবে হালকা সংক্রমণজনিত সমস্যা যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি বা পেটের গোলমাল মাঝে মাঝে ভোগাতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়মতো খাওয়া আর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে এগুলো সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি আঘাত লাগা বা হাড়ে চোট পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে, তাই গাড়ি চালানো, তাড়াহুড়ো করে চলাফেরা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

এই পুরো সময়টায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানসিক অস্থিরতা। মন শান্ত না থাকলে ভালো সুযোগও চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। নিয়মিত একটু সময় নিজের জন্য রাখা, হালকা শরীরচর্চা, ধ্যান বা প্রার্থনা এবং অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলা মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। পরিস্থিতি কঠিন মনে হলেও ধীরে, ঠান্ডা মাথায় এগোলে এই সময়টা শেষ পর্যন্ত আপনাকেই শক্ত করবে।



♉ বৃষ 

বৃষ রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা মোটের ওপর ইতিবাচক হলেও কিছু জায়গায় সচেতন থাকা জরুরি। সম্পত্তি কেনাবেচা বা জমি-বাড়ি সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত একা না নিয়ে শরিক বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালোভাবে আলোচনা করে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। তাতে ভুল বোঝাবুঝি কমবে এবং ভবিষ্যতে আইনি বা পারিবারিক জটিলতা এড়ানো যাবে। ধৈর্য ধরে সব দিক বিচার করলে লাভের দিকটাই বেশি হবে।

এই সময়ে আপনাকে কারও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য করতে হতে পারে। এতে খরচ বাড়লেও মনে এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি ও প্রশান্তি আসবে। আপনার সহানুভূতি ও পাশে থাকার মনোভাব অন্যের মনোবল বাড়াবে, আর সেই ভালো কাজের প্রভাব পরোক্ষভাবে আপনার জীবনেও ইতিবাচক শক্তি এনে দেবে।

আপনার চারপাশে এমন কোনো অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি থাকবেন, যাঁর পরামর্শ এই সময়ে খুব কাজে লাগবে। অহং বা জেদ না রেখে সেই সুপরামর্শ মন দিয়ে শুনলে দীর্ঘদিনের বাধা ধীরে ধীরে কেটে যাবে। একা লড়াই করার বদলে সহযোগিতা গ্রহণ করাই এখন সাফল্যের চাবিকাঠি। এর ফল হিসেবে কাজের জায়গায় বা ব্যক্তিগত জীবনে আটকে থাকা বিষয়গুলো সহজ হতে শুরু করবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কোনো অর্থনৈতিক মামলা বা জমি-বাড়ি সংক্রান্ত বিবাদে আপনার পক্ষে রায় আসার সম্ভাবনা প্রবল। এতে মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আর্থিক দিক থেকেও এই সময়টা বেশ উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আয় বাড়তে পারে বা নতুন কোনো স্থায়ী সম্পদের দিকে এগোনোর সুযোগ আসতে পারে। তবে এই উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সংযম বজায় রাখলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে।

স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকলেও বাতের ব্যথা বা পুরনো জোড়ার সমস্যা একটু বেশি ভোগাতে পারে। ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং শরীরকে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়াই এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান। অবহেলা করলে ছোট সমস্যাই বড় আকার নিতে পারে।

পরিবারে কোনো আনন্দ অনুষ্ঠান বা উৎসবের পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ কোনো কারণে ছন্দপতন হতে পারে। সেটা কারও শরীর খারাপ হওয়া, ভুল বোঝাবুঝি বা বাইরের কোনো পরিস্থিতির জন্য হতে পারে। এতে মন খারাপ হলেও বিষয়টাকে সহজভাবে নিলে সম্পর্কের ক্ষতি হবে না। চলাফেরার সময় বিশেষ সতর্ক থাকুন, কারণ অসাবধানতায় আঘাত লাগার যোগ রয়েছে।

এই সময় আপনার ধর্মভাব ও আধ্যাত্মিক ঝোঁক বাড়বে। প্রার্থনা, ধ্যান বা বিশ্বাসের জায়গায় একটু সময় দিলে মনের অস্থিরতা কমবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি বাড়বে। সব মিলিয়ে ধৈর্য, সংযম আর ভালো পরামর্শকে সঙ্গে রাখলে এই সময়টা আপনার জীবনে স্থিতি ও অগ্রগতির দিকেই নিয়ে যাবে।



♊ মিথুন 

মিথুন রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা বেশ সংবেদনশীল ও সতর্কতার। বিশেষ করে যাঁরা রাজনীতি বা ক্ষমতার কাছাকাছি কোনো ক্ষেত্রে যুক্ত, তাঁদের চলার পথে বিরোধিতা ও শত্রুতা বাড়তে পারে। কথা, সিদ্ধান্ত বা আচরণ খুব সহজেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে, তাই আবেগে নয়—ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চললে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এই সময়ে কারও বিশ্বাসঘাতকতায় কর্মজীবন বা অর্থ-সম্পত্তির বিষয়ে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যাঁদের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করছেন, তাঁদের ব্যাপারে একটু দূরদর্শী হওয়া দরকার। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেন, চুক্তি বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কাগজপত্র পরিষ্কার না হলে এগোবেন না। মুখের কথায় নয়, লিখিত প্রমাণ ও হিসাবই আপনাকে রক্ষা করবে।

আপনার অন্যমনস্কতা বা উদাসীনতা এই সময় বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। ছোট ভুল থেকেই বড় ক্ষতি হওয়ার যোগ রয়েছে। তাই কাজের সময় মন একাগ্র রাখার চেষ্টা করুন, একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব না নেওয়াই ভালো। তালিকা করে কাজ করলে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবার একবার যাচাই করলে ঝুঁকি কমবে।

সন্তানের শরীর-স্বাস্থ্য বা পড়াশোনা ও কাজকর্ম নিয়ে আপনার চিন্তা বাড়তে পারে, আবার কিছু সময় সেই চাপ কমেও যাবে। এই ওঠানামা আপনাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করতে পারে। বাস্তবসম্মত পথ হলো, অযথা ভয় না পেয়ে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।

স্ত্রীর শরীর-স্বাস্থ্যের সমস্যাও মানসিক উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এখানে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা ও মানসিক সাপোর্ট দেওয়া খুব জরুরি। আপনার শান্ত উপস্থিতিই এই সময় পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।

অর্থভাগ্য ও ব্যবসার দিক থেকে সময়টা তুলনামূলক ভালো। আয় বজায় থাকবে বা ধীরে ধীরে বাড়ার সুযোগও আসতে পারে। তাই হতাশার মধ্যেও এই দিকটা আপনাকে কিছুটা ভরসা দেবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীদের জন্য সময়টা শুভ। মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে ভালো ফলের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সার্বিকভাবে মনে হতাশা ও মানসিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। রাগ, উদ্বেগ বা বিরক্তি চেপে রাখার বদলে সুস্থ উপায়ে বের করে আনাই ভালো—হালকা শরীরচর্চা, হাঁটা, প্রিয় কাজ বা কারও সঙ্গে কথা বলা এতে সাহায্য করবে। নিজেকে শান্ত রাখতে পারলে এই কঠিন সময়টাও আপনি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।



♋ কর্কট 

কর্কট রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা পারিবারিক দিক থেকে বেশ চ্যালেঞ্জের হতে পারে। ঘরের ভেতরে মতের অমিল ও ভুল বোঝাবুঝি ধীরে ধীরে মনান্তরে রূপ নিতে পারে, যার ফলে সংসারের পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতিতে কারও সঙ্গে তর্কে জড়ানো বা নিজের কথা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে। বরং অপ্রয়োজনীয় আলোচনা এড়িয়ে চলা, কিছুটা নীরবতা বজায় রাখা এবং সময়কে কাজ করতে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর চেষ্টা এই সময়ে ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। বরং আইনগত পথে অগ্রসর হলে দীর্ঘমেয়াদে আপনার স্বার্থ রক্ষা হবে। আবেগের বশে বা আত্মীয়তার খাতিরে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। ধৈর্য ধরে নিয়ম-কানুন মেনে এগোনোই নিরাপদ।

ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে জলপথে যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। সম্ভব হলে এই ধরনের যাত্রা এড়িয়ে চলাই ভালো। না হলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলুন এবং ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে পদোন্নতির যোগ দেখা যাচ্ছে। এতদিনের পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল পেয়ে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি আসবে। কাজের জায়গায় আপনার দায়িত্ব ও সম্মান দুটোই বাড়তে পারে। উপার্জনের দিক থেকেও সময়টা মোটামুটি শুভ, তাই অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমবে।

তবে উগ্র মেজাজ ও অপ্রিয় কথাবার্তা যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে ঘরে-বাইরে মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে রাগের মাথায় বলা কথা পরে সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। তাই ইচ্ছে করেই নিজেকে একটু শান্ত রাখার অভ্যাস করা দরকার।

স্বাস্থ্য মোটামুটি একই রকম থাকবে, বড় কোনো সমস্যা না হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত বিশ্রাম ও খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে শরীর আপনাকে সাপোর্ট দেবে। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের যোগ রয়েছে, আর সপ্তাহের শেষভাগ থেকে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ও অগ্রগতি স্পষ্ট হবে। ধীরে হলেও এই সময়টা শেষ পর্যন্ত আপনাকে স্থিতি ও সাফল্যের দিকেই নিয়ে যাবে।



♌ সিংহ

সিংহ রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা কাজের জায়গায় কিছুটা মিশ্র অভিজ্ঞতার হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সংস্থাগত কোনো পরিবর্তন প্রথমে আপনার মনমতো নাও লাগতে পারে। নতুন নিয়ম, নতুন দায়িত্ব বা পরিবেশের বদল আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, কিন্তু এটাকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক বলে ধরে নিলে চলবে না। একটু সময় দিলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

আপনার চারপাশে শত্রুভাবাপন্ন কিছু সহকর্মী থাকতে পারে, যারা গোপনে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। তবে আপনার বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতায় তাদের কূটচাল শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যাবে। আবেগে না ভেসে নিজের কাজ নিখুঁতভাবে করে গেলে ধীরে ধীরে আপনার অবস্থান আরও মজবুত হবে এবং কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি আসবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য সময়টা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। কাজের গতি বাড়বে এবং বড় কোনো বরাত বা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে এই সুযোগ ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করতে পারে। হস্তশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, অধ্যাপক বা সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নৈপুণ্যের স্বীকৃতি মিলবে এবং তার সঙ্গে উপার্জনও বাড়বে। বিজ্ঞান গবেষকদের জন্যও এই সময়টা উল্লেখযোগ্য—গবেষণায় সাফল্য, প্রশংসা ও প্রভাবশালী মহলের খাতির লাভের যোগ রয়েছে।

পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে শান্তি বজায় রাখতে হলে কিছু ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থকে সাময়িকভাবে পিছনে রাখতে হতে পারে। সব সময় জিততে চাওয়ার মানসিকতা না রেখে বোঝাপড়া ও সহানুভূতির পথ নিলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। ছোট ছাড়ই বড় অশান্তি এড়াতে সাহায্য করবে।

স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা খুব জরুরি। বিশেষ করে কোমর থেকে নিচের অংশে ব্যথা বা সমস্যার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরায় অসুবিধা হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা বা ভারী কিছু তোলা এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও বিশ্রাম এখানে বাস্তবসম্মত সমাধান।

অর্থভাগ্য মোটের ওপর অনুকূল থাকবে। আয় ও সুযোগ দুটোই বাড়তে পারে, তবে স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের দিকে নজর না দিলে সেই সুখ পুরোপুরি উপভোগ করা যাবে না। ভারসাম্য বজায় রাখলেই এই সময়টা আপনার জন্য সত্যিকারের ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে।



♍ কন্যা 

কন্যা রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা কাজকর্ম ও ব্যক্তিগত উন্নতির দিক থেকে বেশ সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে যাঁরা সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাজে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাবে। নিজের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ বাড়বে এবং আগে যে পরিশ্রম চোখে পড়েনি, তা এবার স্বীকৃতি পেতে পারে। যারা কাজ বদলাতে চান বা কর্মস্থল পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্য সময়টা অনুকূল। সঠিক জায়গায় আবেদন ও ধৈর্য ধরে চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার যোগ রয়েছে।

আর্থিক দিক থেকে অবস্থার উন্নতি হবে। আয় বাড়ার পাশাপাশি অল্প হলেও সঞ্চয় করার সুযোগ আসবে, যা ভবিষ্যতের জন্য স্বস্তিদায়ক। এই সময় হঠাৎ করে কোনো যোগাযোগ বা পরিচয়ের মাধ্যমে নতুন সুযোগ আসতে পারে। পুরোনো পরিচিত হোক বা একেবারে নতুন কেউ—এই যোগাযোগকে হালকাভাবে না নিয়ে বাস্তব দৃষ্টিতে বিচার করলে ভাগ্যোন্নতির দরজা খুলে যেতে পারে।

তবে পারিবারিক ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এখন বড় অঙ্কের আর্থিক লগ্নি করা ঠিক হবে না। আবেগ বা পারিবারিক চাপের কারণে বিনিয়োগ করলে পরে আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, হিসেব কষে এগোনোই নিরাপদ পথ।

দাম্পত্য জীবন ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু মনোমালিন্য দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব ঘরের পরিবেশে অশান্তি ডেকে আনবে। ছোট বিষয় নিয়েই ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে। এই সময়ে নিজের কথাই ঠিক—এই মনোভাব ছাড়তে পারলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হবে। কথা বলার সময় কঠোর ভাষা এড়িয়ে চলা ও ধৈর্য ধরাই এখানে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

ভূসম্পত্তি বা যানবাহন কেনার পরিকল্পনা থাকলে একা সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করা জরুরি। এতে ভবিষ্যতের মতবিরোধ ও আর্থিক চাপ এড়ানো যাবে। মানসিকভাবে এই সময়টা একটু বিক্ষিপ্ত হতে পারে—কখনো আত্মবিশ্বাস, আবার কখনো অকারণ দুশ্চিন্তা ভর করবে। নিয়মিত রুটিন মেনে চলা, নিজের ওপর বাড়তি চাপ না দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে কারও সঙ্গে মন খুলে কথা বললে এই ওঠানামা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।



♎ তুলা 

তুলা রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা ব্যবসা ও অর্থের দিক থেকে বেশ শক্তিশালী হলেও মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে কিছু চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শৌখিন দ্রব্য, বস্ত্র, আসবাবপত্র, রত্ন বা সাজসজ্জার সামগ্রীর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায় ভালো গতি আসবে। ক্রেতার আগ্রহ বাড়বে এবং পুরোনো বিনিয়োগ থেকেও লাভের মুখ দেখতে পারেন। তবে এখানেই সবচেয়ে বড় সতর্কতার জায়গা—পরিকল্পনা ছাড়া ব্যবসা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগ করলে লাভের বদলে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। বাস্তবসম্মত পথ হলো, আগে হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করা এবং ধীরে ধীরে প্রসার ঘটানো।

কর্মক্ষেত্রে বা নতুন কাজ পাওয়ার বিষয়ে কারও কথায় ভরসা করে আশাবাদী হলেও শেষমেশ হতাশ হতে পারেন। তাই শুধু আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে নিজের যোগ্যতা ও বিকল্প পথ খোলা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে মনখারাপ কম হবে এবং নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই থাকবে।

সন্তানের দাম্পত্য জীবনের অশান্তি আপনাকে মানসিকভাবে খুবই ব্যথিত করতে পারে। চাইলেও সবকিছু নিজের মতো করে ঠিক করে দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এই সময়ে উপদেশের চেয়ে সহানুভূতি ও মানসিক সমর্থন বেশি প্রয়োজন। পরিস্থিতি আপনার হাতে নেই—এই সত্যটা মেনে নিতে পারলে নিজের কষ্টও কিছুটা হালকা হবে।

স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। পুরোনো একাধিক রোগ আবার মাথাচাড়া দিতে পারে, যার ফলে দৈহিক ভোগান্তি বাড়বে। অবহেলা না করে নিয়মিত চিকিৎসা, বিশ্রাম ও জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখানে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। শরীর ভালো না থাকলে ভালো সময়ও উপভোগ করা যায় না—এটা মনে রাখা দরকার।

রাজনীতি, আইন বা অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সময়টা বেশ অনুকূল। কাজের প্রসার, পরিচিতি ও সুনাম বাড়ার যোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে পুরোনো কোনো আইনি সমস্যা আবার জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আগেভাগে প্রস্তুতি ও সঠিক পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।

সব মিলিয়ে অর্থভাগ্য শুভ থাকলেও মানসিক চাপ, পারিবারিক দুশ্চিন্তা ও স্বাস্থ্য সমস্যা আপনার শান্তি কেড়ে নিতে পারে। লাভের সময়ে সংযম, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহানুভূতি এবং শরীরের প্রতি যত্ন—এই তিনটি বজায় রাখতে পারলেই এই সময়টা আপনি অনেক বেশি স্থিরভাবে সামলাতে পারবেন।



♏ বৃশ্চিক 

বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা আত্মবিশ্বাস ও অন্তর্দৃষ্টির শক্তিতে ভর করে এগোনোর। আপনার অনুমান ক্ষমতা এখন বেশ তীক্ষ্ণ থাকবে, যার ফলে ব্যবসা বা কাজের জায়গায় আসন্ন বিপদের আভাস আগেই পেয়ে যাবেন। এই আগাম সতর্কতা আপনাকে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে এবং বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। বাস্তবসম্মতভাবে বললে, নিজের অন্তরের সতর্ক সংকেতকে অবহেলা না করাই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি।

জ্ঞাতি বা প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কোনো ঝামেলা থাকলে আইনি পথে এগোনোর ফল আপনার পক্ষেই আসতে পারে। এতে শুধু ন্যায়বিচারই নয়, আটকে থাকা কাজ বা নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ও নতুন করে শুরু হওয়ার সুযোগ আসবে। অতীতের বোঝা কাটিয়ে সামনে এগোনোর রাস্তা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে।

তবে এই সাফল্যের পথে অহংকারী আচরণ বা কঠিন ভাষা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাগ বা জেদের বদলে মিষ্ট ভাষায় কথা বললে বহু বিবাদ সহজেই মিটে যাবে। আপনি যত শান্ত থাকবেন, ততই পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে ঘুরবে—এটা বাস্তবে খুব কার্যকর প্রমাণ হবে।

এই সময়ে কোনো সহৃদয় ও গুণী মানুষের সাহায্য আপনার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। তাঁর পরামর্শ বা সহযোগিতায় পারিবারিক প্রতিকূলতা কাটবে এবং মানসিক ভার অনেকটাই হালকা হবে। একা সবকিছু সামলানোর বদলে সাহায্য গ্রহণ করাই এখানে বুদ্ধিমানের কাজ।

সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বড় সাফল্য ও সুনাম পাওয়ার যোগ রয়েছে। নিজের কাজ নিয়ে গর্ববোধ বাড়বে এবং তার ফলে মনে স্বাভাবিক প্রফুল্লতা আসবে। মানসিক এই ভালো অবস্থাই আপনার কাজের গুণগত মান আরও বাড়িয়ে দেবে।

স্বাস্থ্যের দিক থেকেও ধীরে ধীরে উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে। আগের সমস্যাগুলো হালকা হতে শুরু করবে, আর শক্তি ফিরে আসবে। পাশাপাশি ধর্ম বা আধ্যাত্মিক চর্চার দিকে মন ঝুঁকবে, যা মানসিক শান্তি ও স্থিরতা এনে দেবে। সব মিলিয়ে এই সময়টা আপনার ভেতরের শক্তিকে নতুন করে চিনে নেওয়ার এবং তাকে সঠিক পথে ব্যবহার করার সুযোগ এনে দিচ্ছে।



♐ ধনু 

ধনু রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা পরিশ্রমের ফল পাওয়ার হলেও সম্পর্কের দিক থেকে কিছুটা সংযম দরকার। আপনার দক্ষতা, নিষ্ঠা ও নিজের কাজের ওপর আস্থা জটিল সম্পত্তিগত মামলায় সাফল্য এনে দিতে পারে। যেসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে আলোর মুখ দেখবেন। এখানে ভাগ্যের চেয়ে আপনার স্থির মন আর ধৈর্যই আসল ভূমিকা নেবে, তাই হাল না ছেড়ে নিয়ম মেনে এগোনোই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তবে সতর্কতার জায়গাও আছে। যাকে আপনি আগে সাহায্য করেছিলেন, এমন কোনো আত্মীয়ের আচরণে আপনার নাম জড়িয়ে অপযশ বা পারিবারিক ভর্ৎসনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু আবেগে প্রতিক্রিয়া দেখালে বিষয়টা আরও জটিল হতে পারে। চুপ থেকে, প্রমাণ ও বাস্তব আচরণের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করাই এখানে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ঘরের পরিবেশের দিক থেকে সময়টা তুলনামূলক ভালো। বাড়িতে কোনো শুভ অনুষ্ঠান বা মিলনমেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে অনেক মানুষের সমাগম হবে। পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ, হাসি-আড্ডা ও সৌহার্দ্যে আপনার মন বেশ ফুরফুরে থাকবে। এই আনন্দই সাম্প্রতিক মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

পেশাগত দিক থেকে বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী, বিচারক বা উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মীদের জন্য সময়টা অনুকূল। মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে ভালো অগ্রগতি সম্ভব। তবে আইটি ও এআই ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রে কাজের পথে কিছু বাধা আসতে পারে। এখানে হতাশ না হয়ে দক্ষতা আপডেট করা, বিকল্প পরিকল্পনা রাখা এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই বাস্তবসম্মত সমাধান।

অর্থের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বড় অঙ্কের দান বা দামি খরচ করার আগে ভালো করে ভাবুন, কারণ এই সময়ে অতিরিক্ত উদারতা পরে চাপের কারণ হতে পারে। শরীর-স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকবে এবং ধীরে ধীরে অর্থ ও কর্মক্ষেত্রে উন্নতিও চোখে পড়বে। তবে বন্ধুমহলে ভরসা কম রাখাই ভালো, কারণ বন্ধুভাগ্য এই সময়ে খুব একটা সহায়ক নয়। নিজের শক্তি ও বিচক্ষণতার ওপর ভরসা রাখলেই এই সময়টা আপনি তুলনামূলক শান্তভাবে পার করতে পারবেন।



♑ মকর 

মকর রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা পেশা ও আর্থিক দিক থেকে বেশ শক্তিশালী, বিশেষ করে সপ্তাহের শুরু থেকেই। রাসায়নিক, খনিজ দ্রব্য, যন্ত্রপাতি, প্রিন্টিং বা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ব্যবসায় সোমবারের পর থেকে স্পষ্ট শুভ ফল দেখা যাবে। কাজের গতি বাড়বে এবং নতুন অর্ডার বা সুযোগ আসতে পারে। তবে ভালো চলার মধ্যেও চারপাশে ছোটখাটো ঝামেলা বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা লেগেই থাকতে পারে, যেগুলো সময় ও মানসিক শক্তি নষ্ট করবে। সেগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের মূল লক্ষ্যে মন রাখাই এখানে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সপ্তাহে বড় কোনো সুখবর পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এমন কিছু ঘটতে পারে যা আপনার অবস্থান বা প্রভাব বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে উচ্চতর মহলের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার যোগ রয়েছে। তাঁর সহযোগিতা বা আশীর্বাদ ব্যবসা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনে দিতে পারে। তাই অহং নয়, বিনয় ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখলে এই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আর্থিক দিক থেকেও সময়টা অনুকূল। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, শেয়ার বা স্বল্পমেয়াদি ফাটকা বিনিয়োগ থেকে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও লাভের ইঙ্গিত ভালো, তবু অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে হিসেবি পদক্ষেপ নেওয়াই নিরাপদ। যারা আইন, সাহিত্য বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো পেশায় যুক্ত, তাঁদের জন্য সপ্তাহটি বিশেষ আশাপ্রদ। কাজের স্বীকৃতি, নতুন দায়িত্ব বা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য আসতে পারে।

স্বাস্থ্যের দিক থেকে একটু সাবধান থাকা দরকার। বিশেষ করে পেটের সমস্যা এই সময়ে ভোগাতে পারে। অনিয়মিত খাওয়া, বাইরের খাবার বা মানসিক চাপ এড়াতে না পারলে কষ্ট বাড়তে পারে। সময়মতো খাওয়া, হালকা খাবার ও পর্যাপ্ত জল পান করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সব মিলিয়ে কিছু ঝঞ্ঝাট থাকলেও সঠিক মনোভাব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে এই সময়টা আপনার জন্য আর্থিক ও পেশাগত উন্নতির দিকেই নিয়ে যাবে।



♒ কুম্ভ 

কুম্ভ রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে। আপনার ন্যায্য পাওনা ঠিকই আসবে, তবে তার পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে বা পেতে দেরি হতে পারে। এতে হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু তাড়াহুড়ো বা রাগ করে কিছু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। হিসেব পরিষ্কার রেখে ধীরে ধীরে এগোনোই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

জমি, বাড়ি বা যানবাহন কেনার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তার জন্য ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর হওয়ার যোগ রয়েছে। তাই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দরজা খুলতে পারে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে শর্ত ও ভবিষ্যৎ কিস্তির চাপ ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি, নইলে পরে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

পরিচিত শত্রুদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকুন। অকারণে যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা বিপদ ডেকে আনতে পারে, তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক থেকে প্রেম বা প্রণয়ের ক্ষেত্রে মতান্তর ও মনঃকষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি বড় আকার নেওয়ার আগেই খোলামেলা কথা বললে পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া যাবে।

সংসার সংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বাড়তে পারে। সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা না করে কিছু বিষয় ছেড়ে দিতে শিখলেই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

কাজকর্মে অগ্রগতি হবে ঠিকই, কিন্তু তা হবে ধীরে ধীরে। তাড়াতাড়ি ফল না পেয়ে হতাশ হলে মনোবল কমবে, তাই ধৈর্য ধরে নিজের দায়িত্ব পালন করাই এখানে সেরা কৌশল। অর্থ উপার্জন মোটামুটি শুভ থাকবে, যা দৈনন্দিন চাপ সামাল দিতে সাহায্য করবে।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে অপরাধ শাস্ত্র, দর্শন ও মনস্তত্ত্ব নিয়ে যাঁরা অধ্যয়ন করছেন, তাঁদের জন্য সময়টা বিশেষ সফল। মনোযোগ ও গভীর চিন্তার ফল ভালোভাবে মিলবে। সাহিত্যিক ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও কর্মসাফল্য ও সুনামের যোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ধীর গতির হলেও এই সময়টা আপনাকে স্থিতি ও ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করে দেবে।



♓ মীন 

মীন রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা কাজ ও অর্থের দিক থেকে ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকে মোড় নিলেও মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভেষজ, ওষুধ, সূতির মূল্যবান বস্ত্র কিংবা খাদ্যশস্যের মতো প্রয়োজনভিত্তিক পণ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায় মঙ্গলবারের পর থেকে গতি বাড়তে শুরু করবে। বিক্রি ও লাভ দুইই ধীরে ধীরে উন্নতির পথে যাবে। হঠাৎ বড় লাফ না এলেও ধারাবাহিক অগ্রগতি আপনাকে ভরসা দেবে।

শিল্পী, সাহিত্যিক, বিচারপতি, চিকিৎসা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, আদালত ও কারাকর্মী, প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীদের জন্য সময়টা বিশেষ শুভ। কাজের মান ও দায়িত্ববোধের জন্য স্বীকৃতি মিলবে এবং সুনামও বাড়বে। আপনি যদি নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা আর নিজস্ব চিন্তাভাবনার ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে কাজে সাফল্য আসবেই। এতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় সম্পদ।

তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় কিছুটা আঘাতের যোগ রয়েছে। যাকে আপনি আগে সাহায্য করেছিলেন, সেই বন্ধুর শত্রুতামূলক আচরণে মন খুব কষ্ট পেতে পারে। এতে বিশ্বাস নড়বড়ে হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরিস্থিতি একটু দূর থেকে দেখা ভালো। সব সম্পর্ক চিরস্থায়ী নয়—এই বাস্তবতা মেনে নিলেই মানসিক চাপ কমবে।

যাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে রয়েছেন, তাঁদের ফল প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে। এতে হতাশ না হয়ে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নতুনভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই বাস্তবসম্মত পথ। এই সময়টা শেখার, নিজেকে ঠিক করার—শেষ কথা এখনো বলা হয়নি।

সপ্তাহের মধ্যভাগ থেকে অর্থ উপার্জনের গতি বাড়বে, যা মানসিক স্বস্তি দেবে। তবে স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। অবহেলা করলে স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সময়মতো খাওয়া ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। শরীর ভালো থাকলেই এই শুভ সময়ের পুরোটা আপনি কাজে লাগাতে পারবেন।