শিবরাত্রি পুজোর সময় এবং আজ কি কি করা উচিৎ নয় জেনে নিন
শিবরাত্রির সময়ঃ
রবিবার ১৫ই ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৫ঃ০৪ থেকে
সোমবার ১৬ই ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৫ঃ৩৪ পর্যন্ত
( স্মার্তমতে ১৫ তারিখ , গোস্বামীমতে ১৬ তারিখ শিবরাত্রি )
শিবরাত্রি (মহাশিবরাত্রি)-র পূজা এভাবে করবেন -
🔱 মহাশিবরাত্রি পূজার প্রস্তুতি
🌞 ভোরে ঘুম থেকে উঠুন:
পুরো ঘর ও মন্দিরস্থান পরিষ্কার করে নিন। গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল দিয়ে মন্ত্র পড়তে পড়তে শুধাভাবে স্নান করুন।
🙏 একটি পূজাস্থান তৈরি করুন:
শুভ জায়গায় শিবলিঙ্গ অথবা শিব ও পার্বতী মূর্তি স্থাপন করুন। যেখানে শিবলিঙ্গ বা মূর্তি আছে সেই জায়গাটি ভালোভাবে পরিস্কার করুন ।
🕉️ শিবলিঙ্গ/শিবমূর্তির পূজা ধাপ
গণেশের ধ্যান ও সংকল্প:
শিবপূজার আগে ‘ॐ গণেশায় নমঃ’ বলে গণেশ-জয়ন্ত ধ্যান করুন।জলাভিষেক (জল, দুধ ও ইত্যাদি):
শিবলিঙ্গে প্রথমে গঙ্গাজল, তারপরে দুধ, দই, ঘি, মধু দিয়ে ধীরে ধীরে লিঙ্গের উপর স্নান করান। এই সময় “ॐ নমঃ শিবায়” মন্ত্র উচ্চারণ করুন।বেলপাত্র ও ফুল-ফল অর্পণ:
তিন-পাতার বেলপত্র মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয়, তাই শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ করুন। সাথে ধতুরা ফুল , শ্বেত ফুল, পরিষ্কার ফলও দিতে পারেন।অন্ত্যে চন্দন ও ধূপ-দীপ:
শিবলিঙ্গে চন্দন তিলক লাগিয়ে ধূপ-দীপ জ্বালান।
কপূর বা সুগন্ধী ধূপের সুবাস পবিত্র পরিবেশ তৈরি করে।
📿 মন্ত্র ও জপ
🕉️ “ॐ নমঃ শিবায়” মন্ত্রটি বার-বার জপ করুন।
এছাড়া চাইলে রুদ্রাভিষেক মন্ত্র বা মহামৃত্যুঞ্জয় জপ করেও শুভ ফল পাওয়া যায় ।
🪔 শিবরাত্রির রাতে করণীয়
🌙 রাত্রি জাগরণ:
মহাশিবরাত্রির রাত জাগরণ বিশেষ পুণ্যদায়ী; শিবভাবনায় নিশীথ পর্যন্ত জাগুন।
🥣 উপবাস:
দিনভর বা রাতভর উপবাস রাখলে শিবের বিশেষ অনুগ্রহ মেলে।
অনেকেই শুধু ফল, জল বা দুধ খান।
⚠️ কিছু খাবার/বস্তু শিবলিঙ্গে দেবেন না
তুলসি, কুমকুম/সিন্ধুর, কেতকি ফুল, শঙ্খ-জল ইত্যাদি শিবলিঙ্গে দেওয়া সাধারণত এড়ানো উচিত।
🌼 শেষ ধাপ
📖 শেষদিকে শিবচালিসা, শিবতাণ্ডব স্তোত্র বা শিবপুরাণের কিছু অংশ পড়ুন।
অন্তে ॐ নমঃ শিবায় উচ্চারণ করে অর্পণ শেষ করুন।
✨ এই পূজা-আচার ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে করলে শিবের আশীর্বাদে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ মেলে।
শিবরাত্রি অত্যন্ত পবিত্র তিথি। এই দিনে কিছু আচরণ ও কাজ পরিহার করা শাস্ত্রসম্মত ও শুভ বলে ধরা হয়।
🚫 শিবরাত্রির দিন যা করা উচিৎ নয়
❌ ১. আমিষ ও মদ্যপান
এই দিনে মাছ-মাংস, ডিম, মদ্যপান ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিৎ। দিনটি সত্ত্বিক রাখাই শিবভক্তির অংশ।
❌ ২. রাগ, ঝগড়া, কটু কথা
রাগ করা, কারও সঙ্গে বিবাদে জড়ানো বা কষ্টদায়ক কথা বলা এড়িয়ে চলা উচিৎ। শিবরাত্রি মানসিক শুদ্ধির দিন।
❌ ৩. শিবলিঙ্গে নিষিদ্ধ বস্তু অর্পণ
তুলসি পাতা
কেতকি ফুল
শঙ্খে রাখা জল
কুমকুম / সিঁদুর
ভাঙা চাল (অক্ষত ভাঙা)
❌ ৪. দিনভর অলসতা ও অতিরিক্ত ঘুম
বিশেষ করে নিশীথে জাগরণ শিবরাত্রির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সারাদিন ঘুমিয়ে কাটানো বা উদাসীন থাকা শুভ মনে করা হয় না।
❌ ৫. অসত্য, প্রতারণা, অন্যায় কাজ
মিথ্যা বলা, কাউকে ঠকানো বা অন্যায় আচরণ থেকে দূরে থাকা উচিৎ। দিনটি আত্মসংযম ও পবিত্রতার প্রতীক।
❌ ৬. অপবিত্র অবস্থায় পূজা
শুচিতা বজায় রাখা জরুরি। স্নান না করে বা অশুচি অবস্থায় পূজা করা উচিৎ নয়।
❌ ৭. ভক্তিভাব ছাড়া যান্ত্রিক পূজা
শুধু নিয়ম পালনের জন্য পূজা না করে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা উচিৎ।
✅ মনে রাখার বিষয়
শিবরাত্রির মূল ভাবনা — সংযম, শুদ্ধতা, ভক্তি ও সচেতনতা। নিষেধগুলো ভয় দেখানোর জন্য নয়; ভক্তিভাব ও আধ্যাত্মিক মনোযোগ বজায় রাখার জন্য।
🙏🏻 ওঁ নমঃ শিবায় 🙏🏻
