অয়ানদের নয় . দুঃখের দিন । বিস্তারিত দেখে নিন

 ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হলো মহরম। এটি মুসলমানদের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মাস। মুসলমানরা মূলত দুটি প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কারণে এই মহরম মাস এবং বিশেষ করে এর ১০ম দিন—‘আশুরা’ পালন করে থাকেন:  



১. হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ (সুন্নি মুসলিমদের প্রধান প্রেক্ষাপট)
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহরম মাসের ১০ তারিখ (আশুরার দিন) মহান আল্লাহ তাআলা লোহিত সাগর দ্বিখণ্ডিত করে হজরত মুসা (আ.) এবং তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে রক্ষা করেছিলেন। একই দিনে অত্যাচারী ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী সাগরে ডুবে মারা যায়।  
  • এই ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হজরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন।  
  • পরবর্তীকালে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় এসে যখন ইহুদিদের এই দিনে রোজা রাখতে দেখেন, তখন তিনি মুসলমানদেরও এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন। 
  • তাই বিশ্বজুড়ে সুন্নি মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং সওয়াব লাভের আশায় মহরমের ৯ ও ১০ তারিখে অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রোজা পালন করেন। 



২. কারবালার ঐতিহাসিক ও মর্মান্তিক শোকগাথা (শিয়া মুসলিমদের প্রধান প্রেক্ষাপট)
৬৮০ খ্রিস্টাব্দের (৬১ হিজরি) মহরম মাসের ১০ তারিখে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর পুত্র এবং মহানবী (সা.)-এর প্রিয় নাতি হযরত ইমাম হোসেন (রা.) স্বৈরাচারী শাসক ইয়াজিদের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। 
  • ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর হাতে ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ৭২ জন সঙ্গী কারবালার ময়দানে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় অত্যন্ত নৃশংসভাবে শহীদ হন।  
  • অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার এই মহান আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা গভীর শোক প্রকাশ করেন। তাঁরা কালো পোশাক পরিধান করেন, তাজিয়া মিছিল বের করেন এবং শোকসভা (মজলিস)-র আয়োজন করেন।  
অন্যান্য ঐতিহাসিক বিশ্বাস
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ১০ই মহরমে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। যেমন: এই দিনে আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছিল, হযরত নূহ (আ.)-এর কিশতি মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়ে জুদি পাহাড়ে ভিড়েছিল এবং বিশ্বাস করা হয় যে, কোনো এক মহরমের ১০ তারিখেই (শুক্রবার) কিয়ামত বা মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে।  
সংক্ষেপে বলা যায়, মহরম মুসলমানদের কাছে কোনো আনন্দের উৎসব নয়, বরং এটি আল্লাহর ইবাদত (রোজা রাখা), আত্মশুদ্ধি এবং সত্যের জন্য ইমাম হোসেন (রা.)-এর মহান আত্মত্যাগকে স্মরণ করার একটি পবিত্র মাস